মোঃ ফয়সাল হোসেন,বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান রাজশাহী:
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় বিএনপির সাথে সংঘর্ষে জামায়াাতকর্মী মো. আলাউদ্দিন (৬৫) নামে জামায়াত কর্মী নিহতের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। নিহত আলাউদ্দিনের ছেলে ইমরান নাজির বাদী হয়ে শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মোহনপুর থানায় হত্যাামলা দায়ের করেন।
মামলায় বিএনপির স্থানীয় সাত নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে মোহনপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর ও আত্রাই অগ্রণী ডিগ্রী কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা জি,এম ,আবদুল আওয়াল বলেন, সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে
রোববার দুপুরে নিহত আলাউদ্দিনের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর বিকালে নিজ এলাকা সাঁকোয়ায় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর আলাউদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে রোববার বিকেলে জানাজার আয়োজন করা হয়।জানাজার নামাজে ইমামতি করেন জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সংগঠনের নায়েবে আমির রাজশাহী ১( গোদাগাড়ি-তানোর) আসন সংসদ সদস্য অধ্যাপক মজিবর রহমান।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাগমারা আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সংসদ সদস্য ডাঃ আ: বারী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম,
পবা উপজেলার হড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জামায়াতের কাশিয়াডাঙ্গা থানা সুরা কর্মপরিষদের সদস্য ও
রাজশাহী মহানগর ত্রাণ ও পূর্ণবাসন বিষয়ক সম্পাদক পবা-মোহনপুর আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী জেলা শাখা সুরা কর্ম পরিষদ সদস্য বেলঘরিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল আলহাজ্ব মাওলানা এফ এম ইসমাইল আলম আল হাসানি, কেন্দ্রীয় সংগঠনের সুরা পরিষদ সদস্য, রাজশাহী জেলা শাখা নায়েবে আমির সহকারি অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল খালেক, জেলা শাখা আমির কেন্দ্রীয় সংগঠনের সুরা সদস্য অধ্যাপক আব্দুল খালেক, নায়েবে আমির ভাইস প্রিন্সিপাল আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদসহ,উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও রায়ঘাটি ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর মৃধা,মোহনপুর উপজেলার শাখার সহকারি সেক্রেটারি মাস্টার আব্দুল আজিজ,
কেশরহাট বাজার বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, জামাতে ইসলামী থানা যুব সেক্রেটারি সেলিম রেজা,
মরহুম আলাউদ্দিনের বড় ছেলে ইমরান নাজিরসহ বিভিন্ন প্রান্ত হতে আগত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণসহ,বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আলাউদ্দিন স্ত্রী, ছয় ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।এদিকে জানাজার আগে সাঁকোয়া মোড়ে ‘শহীদ আলাউদ্দিন চত্বর’ ঘোষণা করা হয়।
প্রসঙ্গত, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মোহনপুরের সাঁকোয়া এলাকায় ঈদের নামাজে ইমাম নির্ধারণকে কেন্দ্র করে মডেল মসজিদে মুসল্লিদের বৈঠক ছিল। সেখানে আলাউদ্দিনের ছেলেদের সঙ্গে বিএনপিকর্মী ওমর ফারুক, মো.রাইসুল ইসলাম রাসেল, আব্দুল করিম, আব্দুল কুদ্দুসসহ কয়েকজনের কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় বিএনপির কর্মীরা আলাউদ্দিনকে ফেলে দিয়ে তার বুকের ওপর উঠে বসে বলে জামায়াতের নেতাকর্মীদের অভিযোগ। এতে ঘটনাস্থলেই আলাউদ্দিনের মৃত্যু হয়। রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন জানান, আলাউদ্দিন নিহতের ঘটনায় হত্যামামলা হয়েছে। আমরা আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছি। আশাকরছি, দ্রুততার সাথে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। এবিষয়ে মোহনপুর থানার অফিস ইনচার্জ (ওসি ) এস, এম, মইনুদ্দিন জানান, মোয়াজ্জিন আলাউদ্দিন হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেফতারে কাজ করছে পুলিশ। শীঘ্রই আসামীদের গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে।