মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মৃত্যুফাঁদের নাম ‘চায়না দুয়ারি’: নীরব ধ্বংসের মুখে দেশি মাছের অভয়াশ্রম সদরপুরে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ: ভুক্তভোগীর পাশে এমপি বাবুল, দ্রু ত বিচারের নির্দেশ আত্মত্যাগের চেতনাকে লাভজনক চেতনা বানাবেন না : তথ্যমন্ত্রী মানবপাচার বন্ধে আইনের শাসন নিশ্চিত করা জরুরি: রুহুল কবির রিজভী ঢাকা পৌঁছেছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গর ৫ মাসে কিছুই বদলায়নি, ঘুষখোররা এখনও ঘুষ খাচ্ছে : মির্জা ফখরুল মানবপাচারের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিবন্ধী ৩ ব্যক্তির হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী ঢাকাসহ ৯ অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টির আভাস, কমবে গরম মনোহরদীতে মোবাইল কোটে মাদক ব্যবসায়ী রাজীব চন্দ্র দেকে ১০ মাসের কারাদণ্ড প্রদান
জরুরী :
ওয়েবসাইট উন্নয়নের কাজ চলমান সাথেই থাকুন দেখতে থাকুন

রক্তদানের আগে পরে যেসব বিষয় মাথায় রাখতে হবে

Reporter Name

লাইফস্টাইল ডেস্ক:

জরুরি প্রয়োজন কিংবা যে কোনো সময় রক্তদান করতে পারে যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ‍সুস্থ মানুষ।

তবে নিজেকে সুস্থ মনে হলেও রক্তদানের আগে ও পরে বেশ কয়েকটি বিষয় জেনে রাখা প্রয়োজন।

এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছে হেল্থ এইড হাসপাতালের ডা. আফিফ বাসার।

রক্তদান একটি মহৎ কাজ, যা জীবন বাঁচাতে পারে। অনেক সময় দুর্ঘটনায় বা বড় অপারেশনে প্রচুর রক্তের প্রয়োজন হয়, বিশেষ করে আগুনে পোড়ার মতো গুরুতর রোগীর ক্ষেত্রে।

কখন রক্ত দিতে হয়?

রক্তের প্রয়োজন মানুষের জীবনে যে কোনো সময় হতে পারে।

দুর্ঘটনা ও আঘাত: সড়ক দুর্ঘটনা, আগুনে পোড়া বা যে কোনো গুরুতর আঘাতের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে রোগীর রক্তের প্রয়োজন হয়।

বড় অপারেশন: বিভিন্ন জটিল অস্ত্রোপচারের সময়, যেমন- হার্ট সার্জারি, ক্যান্সারের অপারেশন, যা রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়।

এই সময়ে রোগীর জন্য আগে থেকেই রক্ত সংরক্ষণ করে রাখা হয়।

রক্তস্বল্পতা: থ্যালাসেমিয়া, অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া বা অন্যান্য রক্তরোগে আক্রান্ত রোগীদের নিয়মিত রক্তের প্রয়োজন হয়।

ক্যান্সার চিকিৎসা: কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপির কারণে রক্তকণিকা ক্ষতিগ্রস্ত হলে রোগীর রক্তের প্রয়োজন হয়। পরীক্ষার মাধ্যমে রোগীর রক্ত প্রয়োজন কিনা অনেক সময়ে তা নির্ণয় করেন চিকিৎসকরা।

প্রসবকালীন জটিলতা: সন্তান জন্মদানের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে মায়ের জীবন বাঁচাতে রক্তের প্রয়োজন হয়।

একজন সুস্থ ব্যক্তি প্রতি চার মাস পর পর রক্ত দিতে পারেন। নারীদের ক্ষেত্রে সাধারণত ছয় মাস পর রক্ত দিতে বলা হয়।

রক্তদানের আগে করণীয়

রক্তদান একটি সহজ প্রক্রিয়া হলেও এর আগে কিছু প্রস্তুতি ও সতর্কতা মেনে চলা উচিত।

পর্যাপ্ত ঘুম: রক্তদানের আগের রাতে পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। কারণ ঘুমের কমতি শরীরে প্রভাব ফেলে।

পুষ্টিকর খাবার: রক্তদানের এক থেকে চার ঘণ্টা আগে পুষ্টিকর ও আয়রন বা লৌহ সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা উচিত। খালি পেটে রক্তদান করলে দুর্বলতা বা মাথা ঘোরার ঝুঁকি থাকে।

পর্যাপ্ত পানি পান: রক্তদানের আগে কমপক্ষে ৫০০ মি.লি. বা দুই গ্লাস পানি পান করতে হবে। এটি রক্তদানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্য পরীক্ষা: রক্তদানের আগে শরীরে জ্বর, সর্দি-কাশি বা অন্য কোনো অসুস্থতা আছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে হবে। কোন সমস্যা থাকলে রক্তদান করা ঠিক নয়।

ওষুধের বিষয়ে সতর্কতা: যদি কোনো অ্যান্টিবায়োটিক, ইনসুলিন বা অ্যাসপিরিনের মতো ওষুধ গ্রহণ করেন, তবে রক্তদানের আগে অবশ্যই চিকিৎসককে জানাতে হবে এবং তার পরামর্শ নিতে হবে। কারণ কিছু ওষুধ রক্তদানের জন্য ব্যক্তিকে অযোগ্য করে তুলতে পারে।

ধূমপান ও মদ্যপান: রক্তদানের অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে মদ্যপান এবং দু-চার ঘণ্টা আগে ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে। এটি রক্ত দানের জন্য ঠিক নয়।

বয়স ও ওজন: রক্তদাতার বয়স ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে এবং ওজন ন্যূনতম ৪৫ কেজি বা ১০০ পাউন্ড হতে হবে।

রক্তদানের পরে করণীয়

রক্তদানের পর শরীরকে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য কিছু বিষয় মেনে চলা উচিত।

বিশ্রাম: রক্তদানের পর কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ মিনিট বিশ্রাম নিতে হবে। ভালো হয় যেখানে রক্ত দিয়েছে সেখানেই বিশ্রাম নিলে। রক্ত দিয়ে তাড়াহুড়া করে উঠে যাওয়া যাবে না।

প্রচুর তরল পান: পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পানি, ফলের রস, ডাবের পানি, লেবুর শরবত বা স্যুপ পান করতে হবে। এতে রক্তের প্লাজমা দ্রুত পূরণ হবে। যা নিজের শরীরের জন্য ভালো।

ভারী কাজ পরিহার: রক্তদানের দিন ভারী জিনিস তোলা, ব্যায়াম করা বা অন্য কোনো কঠোর শারীরিক কসরত থেকে বিরত থাকতে হবে। রক্ত দিলে শরীরে দুর্বলতা আসতে পারে। তাই বিশ্রাম নিলে শরীর আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

সুষম খাবার: পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা সুষম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে যেন দুর্বলতা কেটে যায়।

চা-কফি পরিহার: রক্তদানের পর দুতিন ঘণ্টা চা-কফি পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ এগুলো আয়রন বা লৌহ শোষণে বাধা দিতে পারে। এছাড়া চা ও কফিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যাফেইন থাকে যা রক্তদানের পর গ্রহণ ঠিক নয়।

ব্যান্ডেজ: রক্ত সংগ্রহের স্থানে লাগানো ব্যান্ডেজ কমপক্ষে কয়েক ঘণ্টা রাখতে হবে। আর ব্যান্ডেজ খোলার পর সাবান পানি দিয়ে পরিষ্কার করা জরুরি।

শারীরিক অস্বস্তি: যদি রক্তদানের পর মাথা-ঘোরা বা কোনো শারীরিক অস্বস্তি অনুভব হয়, তবে কিছুক্ষণ বসে বা শুয়ে থাকতে হবে যতক্ষণ না সুস্থ বোধ হয়। প্রয়োজনে রক্ত সংগ্রহকেন্দ্রেও যোগাযোগ করা যেতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের পেইজ