মোঃ আরিফ শেখ স্টাফ রিপোর্টার ফরিদপুর :
ফরিদপুর সদর থানায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায়, লিগ্যাল এইডে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির পর এক যুবককে প্রকাশ্যে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত নারীর নাম সাদিয়া আক্তার,যিনি বোয়ালমারী উপজেলার বাসিন্দা। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে তার দুলাভাই সহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী আবুল হাসান জানান, সাদিয়া আক্তারের সঙ্গে তার বিয়ে হয় কিছুদিন আগে। তবে বিয়ের পরপরই সাদিয়ার আচরণে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাদিয়া আক্তার এর আগেও একাধিক বিয়ে করেছেন এবং প্রতিবারই নানা লোভ ও চারিত্রিক অবক্ষয়ের কারণে সেই সম্পর্কগুলো ভেঙে যায়।
সম্প্রতি সাদিয়া আক্তার ফরিদপুরের লিগ্যাল এইড অফিসে আবুল হাসানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা সূত্রে তিনি ১৬ অক্টোবর (বুধবার) হাজিরা দিতে লিগ্যাল এইড অফিসে যান। কিন্তু সেই দিন শুনানি শেষে তিনি যখন বাড়ি ফিরছিলেন, তখন সদর উপজেলার একটি সড়কে সাদিয়া আক্তার, তার দুলাভাই ও আরও কয়েকজন তাকে পথরোধ করে জোরপূর্বক গাড়িতে তোলার চেষ্টা করে।
এ সময় আবুল হাসানের সঙ্গে থাকা নগদ ১ লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। তার চিৎকারে আশপাশের স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে ফরিদপুর সদর থানায় নিয়ে যান।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গণমাধ্যমকে জানান, “ভুক্তভোগী আবুল হাসান একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অনেকে জানিয়েছেন, সাদিয়া আক্তার দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্নজনকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে এর আগেও অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে, তবে এবার বিষয়টি আরও মারাত্মক রূপ নিয়েছে।
ভুক্তভোগী আবুল হাসান জানিয়েছেন, “আমি শান্তিপূর্ণভাবে বিবাহিত জীবন কাটাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সাদিয়া বিয়ের পর থেকেই আমাকে নানাভাবে হুমকি দিতে থাকে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”বলে দাবি করে ভুক্তভোগী।