রাজধানীতে নৃশংস হত্যাকাণ্ড, টুকরো মরদেহ উদ্ধার সাভারের আমিনবাজারে
রুবেল হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার :
সাভারের আমিনবাজারের সালেপুর ব্রিজের নিচ থেকে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার বাসিন্দা ওবায়দুল্লাহ (৩০)-এর মরদেহের কোমরের নিচের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তার কাটা হাত-পা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে শাহীন আলম (২১) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১ মার্চ) সকালে সাভারের আমিনবাজার এলাকার সালেপুর ব্রিজের নিচে মরদেহের একটি খণ্ডিত অংশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কোমরের নিচের অংশটি উদ্ধার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এর আগে শুক্রবার রাতে রাজধানীর পল্টনের আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারের সামনে একটি কাটা পা উদ্ধার করা হয়। পরদিন শনিবার সকালে বায়তুল মোকাররম এলাকার সামনে থেকে দুটি হাত এবং পরে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে আরেকটি পা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া হাতের আঙুলের ছাপ যাচাই করে পুলিশ নিশ্চিত হয়, খণ্ডিত অংশগুলো নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার বাসিন্দা ওবায়দুল্লাহর।
নিহত ওবায়দুল্লাহ একটি হোমিওপ্যাথিক প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি রাজধানীতে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
মতিঝিল জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবী জানান, শনিবার দুপুরে বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে শাহীন আলমকে শনাক্ত করা হয় এবং তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত শাহীন মতিঝিল এলাকার হীরাঝিল হোটেলের কর্মচারী এবং তিনি নিহত ওবায়দুল্লাহর সঙ্গে একই ফ্ল্যাটে রুমমেট হিসেবে বসবাস করতেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, স্কাউট ভবনের সামনে স্থাপিত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি সাইকেলে করে এসে কালো পলিথিনে মোড়ানো কিছু একটি বস্তু ফেলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ওই ব্যক্তিকে শাহীন হিসেবে শনাক্ত করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন আলম স্বীকার করেছেন যে, ব্যক্তিগত ক্ষোভের জেরে শুক্রবার রাতে তিনি ওবায়দুল্লাহকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মরদেহ টুকরো করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন। তিনি দাবি করেন, নিহত ব্যক্তি প্রায়ই তার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কটূক্তি করতেন।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ টুকরো করতে ব্যবহৃত একটি চাপাতি জব্দ করেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং পুরো ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।