বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নগরকান্দা উপজেলার শংকরপাশা বাজারে সিটি ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং উদ্বোধন ছাতকে ৮০০ পিস ই’য়া’বাসহ একজন গ্রেফতার। ফরিদপুর থেকে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন গ্রাজুয়েট গ্রুপের: ২০২৭ সালের মধ্যে নিজস্ব জমিতে কারখানা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য চিলমারীতে “জিপিএ-৫ প্রাপ্ত সুপ্তিকে” ব্রহ্মপুত্রের বিশেষ সংবর্ধনা রাজশাহীর মোহনপুরে ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে জাতীয় যুব দিবস উদযাপিত পটিয়া থানায় প্রভাব বিস্তার করে হট্টগোল করায় নারীকে বিতাড়িত ভূরুঙ্গামারীতে এইচএসসি ও আলিমের ফল প্রকাশে শীর্ষে ধলডাঙ্গা কলেজ ও ফাজিল মাদ্রাসা কালারুকা ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মনসুর আজাদের সমর্থনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু; পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ ও কবর জিয়ারত করলেন এনসিপি’র সাজ্জাদ হোসেন বালিয়াকান্দিতে জামালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মীর মনিরুজ্জামান বাবুর নেমপ্লেট বিতরণ ও গণসংযোগ
জরুরী :
ওয়েবসাইট উন্নয়নের কাজ চলমান সাথেই থাকুন দেখতে থাকুন

শীতের আগমনী বার্তায় কুয়াশার চাদরে মনপুরা, পর্যটকদের হাতছানি

Reporter Name

 

মোঃ শাকিল খান রাজু সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার।

শীতের আগমনী বার্তায় কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে চারপাশ। হিমেল বাতাস, মেঘনার বুকে ভেসে থাকা ধোঁয়াটে কুয়াশা, বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ আর আঁকাবাঁকা মেঠোপথ—সব মিলিয়ে প্রকৃতি যেন সেজেছে নতুন রূপে। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে নদীর বুকে কুয়াশার আস্তরণ আর গ্রামীণ জনপদের স্নিগ্ধ দৃশ্য তৈরি করছে এক মায়াবী পরিবেশ। প্রকৃতির এমন অপরূপ সৌন্দর্যে শীতের পর্যটকদের হাতছানি দিচ্ছে ভোলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরা।

ভোলা জেলা শহর থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মনপুরা। মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগরবেষ্টিত এ দ্বীপের রয়েছে স্বতন্ত্র ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। নগরজীবনের কোলাহল থেকে দূরে নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটানো, নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করা কিংবা প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার জন্য মনপুরা হতে পারে ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণীয় গন্তব্য।

শীতের সকালে মনপুরার প্রকৃতি ধারণ করে ভিন্ন এক রূপ। ঘন কুয়াশায় ঢাকা নদী, হিমেল বাতাসের পরশ আর সূর্যের প্রথম আলোর মিতালি মুগ্ধ করে প্রকৃতিপ্রেমীদের। রাস্তার পাশে সারি সারি খেজুরগাছ, গাছিদের খেজুরের রস সংগ্রহ এবং গ্রামীণ উঠানে খেজুরের গুড় তৈরির ব্যস্ততা তুলে ধরে বাংলার চিরচেনা শীতকালীন ঐতিহ্য।

কোথাও চিতই পিঠাসহ নানা ধরনের শীতের পিঠা তৈরির আয়োজন, কোথাও আবার কৃষকের মাঠে কর্মব্যস্ততা। সব মিলিয়ে মনপুরার গ্রামীণ জীবন হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত। প্রকৃতির এই স্নিগ্ধ পরিবেশ স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি ভ্রমণপিপাসুদেরও আকৃষ্ট করতে পারে।

সূর্যের প্রথম আলো যখন ধীরে ধীরে কুয়াশার আবরণ ভেদ করে নদীর বুকে ছড়িয়ে পড়ে, তখন প্রকৃতির সৌন্দর্য পায় নতুন মাত্রা। দূর দিগন্তে নদী ও আকাশের মিতালি, নৌকার ধীরগতির চলাচল এবং ঢেউয়ের মৃদু শব্দ ভ্রমণকারীদের মনে এনে দেয় প্রশান্তির অনুভূতি। শীতের সকালে নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় দেখা কিংবা বিকেলে সূর্যাস্তের রঙিন আভা উপভোগ করা হতে পারে ভ্রমণের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।

মেঘনা নদীবেষ্টিত মনপুরার অন্যতম আকর্ষণ এর বিস্তীর্ণ নদীতীর ও জলরাশি। নদীতে জেলেদের মাছ ধরা, নৌযানের চলাচল এবং উপকূলীয় মানুষের জীবনসংগ্রাম দ্বীপটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি তুলে ধরে নদীকেন্দ্রিক জনজীবনের বাস্তব চিত্র।

মনপুরার সবুজ ফসলের মাঠ, আঁকাবাঁকা পথ, গাছপালায় ঘেরা জনপদ এবং নদীর তীরঘেঁষা জনবসতি পর্যটকদের সামনে তুলে ধরে বাংলার গ্রামীণ জীবনের অনন্য রূপ। স্থানীয় মানুষের জীবনযাপন, মাছ ধরা, নৌযাত্রা ও ঋতুভিত্তিক গ্রামীণ কর্মযজ্ঞের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে এখানে।

প্রকৃতিপ্রেমীদের পাশাপাশি আলোকচিত্রীদের জন্যও মনপুরার নদী, কুয়াশা, সবুজ প্রকৃতি ও গ্রামীণ পরিবেশ হতে পারে ছবি তোলার আকর্ষণীয় অনুষঙ্গ। পরিবার-পরিজন কিংবা বন্ধুদের নিয়ে নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটাতে চান, এমন ভ্রমণপিপাসুদের জন্যও দ্বীপটি হতে পারে ভিন্নধর্মী এক অভিজ্ঞতার ঠিকানা।

শীতকাল সাধারণত ভ্রমণের উপযোগী সময় হিসেবে বিবেচিত হয়। এ সময় তুলনামূলক আরামদায়ক আবহাওয়ায় ঘোরাঘুরি, ছবি তোলা এবং খোলা পরিবেশে সময় কাটানো সহজ হয়। বিশেষ করে কোলাহলপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রের পরিবর্তে যাঁরা প্রকৃতির সান্নিধ্যে শান্ত সময় কাটাতে চান, তাঁদের কাছে মনপুরার আকর্ষণ হতে পারে আলাদা।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও স্বতন্ত্র ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মনপুরায় পর্যটনশিল্প বিকাশের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন পরিকল্পিত উদ্যোগ, পর্যটকবান্ধব যোগাযোগব্যবস্থা, নিরাপদ নৌযাত্রা, মানসম্মত আবাসন এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা। একই সঙ্গে দ্বীপের জীববৈচিত্র্য, নদী ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নও চরফ্যাশন ও মনপুরার পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার পর গত ২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি চরফ্যাশন ও মনপুরাকে পরিবেশবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে টেকসই ইকো-ট্যুরিজম গড়ে তোলা গেলে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

নুরুল ইসলাম নয়ন আরও উল্লেখ করেন, মনপুরা ও চরফ্যাশনের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল, নদী, সমুদ্র ও প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যটন বিকাশের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সরকার মনপুরাকে পর্যটন অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করলে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে টেকসই পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলেও তিনি মত দেন।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নদীবেষ্টিত পরিবেশ ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের কারণে মনপুরা পর্যটনশিল্পের একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য। পরিকল্পিত পর্যটন অবকাঠামো, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এ খাত স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জীবনমান উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।

শীতের কুয়াশামাখা সকাল, মেঘনার বুকে সূর্যোদয়, সবুজ মাঠ আর গ্রামীণ জীবনের স্নিগ্ধতা—সব মিলিয়ে মনপুরা যেন প্রকৃতির এক অনন্য আয়োজন। প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও পরিবেশ সংরক্ষণের সমন্বয় ঘটানো গেলে ভোলার এ দ্বীপ ভবিষ্যতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আরও পরিচিত হয়ে উঠতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের পেইজ