বিশ্বজিৎ পাল, বিশেষ প্রতিনিধি রাজবাড়ী।
রাজবাড়ী-২ (পাংশা, কালুখালী, বালিয়াকান্দি) সংসদীয় আসনটি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই আসনের নির্বাচনী মাঠে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উভয় মনোনীত প্রার্থীর নাম একই হওয়ায় এক ধরনের “ধাদা” বা মজার বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা স্থানীয় রাজনীতি ছাড়িয়ে সারা দেশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই ঘটনা রাজবাড়ীর নির্বাচনী ইতিহাসে একটি ভাইরাল বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
প্রার্থী পরিচিতি ও মনোনয়নের প্রেক্ষাপট
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী: রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ হারুন-অর-রশীদ (হারুন)। নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাকে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।
জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই আসনে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল মোঃ হারুন-অর-রশীদ-কে।
উভয় প্রার্থীর নাম “হারুন-অর-রশীদ” হওয়ায় এই আসনে মূলত “দুই হারুনের” নির্বাচনী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
জনমতে প্রতিক্রিয়া ও নির্বাচনী আমেজ
এই নামের মিল স্থানীয় ভোটার ও নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এবং চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পর্যন্ত সবখানে এটি একটি কৌতূহলোদ্দীপক বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
বিভ্রান্তির সম্ভাবনা: অনেকে মনে করছেন, একই নামের দুই প্রার্থী হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে, বিশেষ করে যদি দুই দলের প্রার্থীরাই শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকেন।
ঐক্যবদ্ধ বিএনপির চিত্র: বিএনপি প্রার্থী হারুন-অর-রশীদ মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই দলের দীর্ঘ ১৮ বছরের কোন্দল নিরসনে কাজ শুরু করেছেন। তিনি নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে কবর জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন এবং সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তার এই উদ্যোগে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে এবং তারা মনে করছেন, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে এই আসনটি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।
আলোচিত বিষয়: “হারুন বনাম হারুন” ইস্যুটি রাজবাড়ীর নির্বাচনী আবহকে আরও জমিয়ে তুলেছে। জনগণ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে এটি একটি আকর্ষণীয় রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাজনৈতিক গুরুত্ব
রাজবাড়ী-২ আসনটি বরাবরই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯১ সালের পর থেকে এই আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়েরই প্রভাব রয়েছে। একই নামের দুই প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই আসনের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিশেষ অধ্যায় রচনা করতে পারে। শেষ পর্যন্ত কোন হারুন ভোটারদের মন জয় করে বিজয়ের মালা ছিনিয়ে আনেন, তা জানতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে রাজবাড়ীবাসী।