বিশ্বজিৎ পাল,
বিশেষ প্রতিনিধি, রাজবাড়ী জেলা |
গত ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাজবাড়ী জেলার মান্যবর জেলা প্রশাসক জনাব সুলতানা আক্তার ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাজবাড়ী জেলা কারাগার বার্ষিক ও নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব উছেন মে, জেল সুপার এবং কারা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
চৌকস দলের গার্ড অব অনার
পরিদর্শনের প্রাক্কালে জেলা প্রশাসক মহোদয় কারাগার চত্বরে পৌঁছালে কারারক্ষীদের একটি সুসজ্জিত ও চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার ও সশস্ত্র সালাম প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা জানায়। অভিবাদন গ্রহণ শেষে তিনি পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করেন।
কারাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শাখা পর্যবেক্ষণ
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক মহোদয় কারাগারের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল:
আবাসন ব্যবস্থা: কারাগারের সাধারণ ওয়ার্ডসমূহ এবং বিশেষ করে কিশোর ওয়ার্ড পরিদর্শন করে বন্দীদের জীবনযাত্রার মান দেখেন।
খাদ্য ও স্বাস্থ্য: কারাগারের রন্ধনশালা (পাকঘর) পরিদর্শন করে খাবারের মান ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পরীক্ষা করেন। পাশাপাশি কারাবন্দীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেন।
নিরাপত্তা ও পরিবেশ: কারাভ্যন্তরের বিভিন্ন চত্বর ঘুরে দেখে তিনি সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পরিবেশগত ভারসাম্য পর্যবেক্ষণ করেন।
বন্দীদের অধিকার ও পোস্টাল ব্যালট প্রসঙ্গে সচেতনতা
এবারের পরিদর্শনের একটি বিশেষ দিক ছিল কারাবন্দীদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিতকরণ। জেলা প্রশাসক মহোদয় কারাবন্দীদের পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদানের প্রক্রিয়া ও এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন। তিনি গুরুত্বারোপ করেন যে, আইনগত সীমাবদ্ধতা থাকলেও একজন নাগরিক হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ যেন যথাযথ প্রক্রিয়ায় বজায় থাকে।
প্রশাসনের দিকনির্দেশনা
পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মহোদয় কারা কর্তৃপক্ষকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন:
মানবিক ব্যবস্থাপনা: কারাগারকে কেবল শাস্তির জায়গা নয়, বরং সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তুলতে মানবিক আচরণ বজায় রাখা।
বিধি-বিধান অনুসরণ: জেল কোড বা প্রচলিত কারাবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালন করা।
শৃঙ্খলা রক্ষা: কারাগারের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা অধিকতর জোরদার করা।
সদয় দৃষ্টি:
মান্যবর জেলা প্রশাসকের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নিবিড় তদারকি জেলা কারাগারের প্রশাসনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি ও বন্দীদের অধিকার সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।