মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মৃত্যুফাঁদের নাম ‘চায়না দুয়ারি’: নীরব ধ্বংসের মুখে দেশি মাছের অভয়াশ্রম সদরপুরে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ: ভুক্তভোগীর পাশে এমপি বাবুল, দ্রু ত বিচারের নির্দেশ আত্মত্যাগের চেতনাকে লাভজনক চেতনা বানাবেন না : তথ্যমন্ত্রী মানবপাচার বন্ধে আইনের শাসন নিশ্চিত করা জরুরি: রুহুল কবির রিজভী ঢাকা পৌঁছেছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গর ৫ মাসে কিছুই বদলায়নি, ঘুষখোররা এখনও ঘুষ খাচ্ছে : মির্জা ফখরুল মানবপাচারের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিবন্ধী ৩ ব্যক্তির হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী ঢাকাসহ ৯ অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টির আভাস, কমবে গরম মনোহরদীতে মোবাইল কোটে মাদক ব্যবসায়ী রাজীব চন্দ্র দেকে ১০ মাসের কারাদণ্ড প্রদান
জরুরী :
ওয়েবসাইট উন্নয়নের কাজ চলমান সাথেই থাকুন দেখতে থাকুন

ত্রয়োদশ সংসদের ৮৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ উচ্চ ডিগ্রিধারী: টিআইবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ত্রয়োদশ সংসদের ৮৪ দশমিক ৮৩ শতাংশই স্নাতক-স্নাতকোত্তর বা এর উচ্চ ডিগ্রিধারী। তবে সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব মাত্র ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ, যা ২০০৮ সালের নবম সংসদের অর্ধেক এবং সবচেয়ে কম। এছাড়া সংসদ অপেক্ষাকৃত তরুণ, প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছেন ২০৯ জন (৭০ শতাংশ)। এমনকি সম্ভাব্য সংসদ নেতা ও বিরোধী দলীয় নেতার দু’জনই প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছেন।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে সংস্থাটির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

টিআইবি বলছে, ত্রয়োদশ সংসদের ৮৪ দশমিক ৮৩ শতাংশই স্নাতক-স্নাতকোত্তর ও ঊর্ধ্ব ডিগ্রিধারী। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্নাতকোত্তর ৪৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ। অন্যদিকে এবারের সংসদেও ব্যবসায়ী পেশার প্রার্থীরা সবচেয়ে বেশি প্রায় ৬০ শতাংশ, যদিও দ্বাদশ সংসদের তুলনায় ত্রয়োদশ সংসদে ব্যবসায়ীদের সংখ্যা ৫ শতাংশ কমেছে, আর নবম সংসদের তুলনায় ৩ শতাংশ বেড়েছে।

বিগত চারটি সংসদের তুলনায় এবারই সবচেয়ে বেশি শিক্ষক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তবে সবচেয়ে কমে গেছে পেশায় রাজনীতিবিদের সংখ্যা। ৭৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ কোটিপতি সংসদ সদস্য, আর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য অনুযায়ী ২৩৬ জন সংসদ সদস্য কোটিপতি, আর ১৩ জন শতকোটিপতি।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি উল্লেখ করেছে, ত্রয়োদশ সংসদের অর্ধেক সংসদ সদস্যই দায় বা ঋণ রয়েছে, সদস্যদের মোট দায় বা ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা। যা বিগত চার সংসদের তুলনায় সর্বোচ্চ। দলগতভাবে বিএনপিতে এই হার ৬২ শতাংশ এবং জামায়াতে ইসলামীতে ১৬ শতাংশ।

টিআইবি বলছে, নির্বাচন আয়োজনে সম্পৃক্ত সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বিশেষ করে, প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের একাংশের মধ্যে সুস্থ ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতে ব্যাপক অনিয়ম ও নিষ্ক্রিয়তা লক্ষণীয় ছিল। পাশাপাশি নির্বাচনি আচরণবিধি প্রতিপালনে রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের নির্বাচন কমিশনকে অসহযোগিতার মনোভাবও প্রকাশ পেয়েছে। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের অনেকের ক্ষেত্রে সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নিশ্চিতের মূল্যবোধের পরিপন্থি আচরণ ক্রমাগত দৃশ্যমান হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনি আচরণবিধি মান্য করার অঙ্গীকার করলেও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সেই অঙ্গীকার রক্ষা করেনি। এমনকি প্রার্থীরাও তাদের নির্ধারিত খরচের সীমা অতিক্রমের চর্চা অব্যাহত রেখেছে।

টিআইবি আরও উল্লেখ করেছে, প্রচারণা ব্যয়ের সীমা অনলাইন ও অফলাইন একক ও যৌথভাবে ব্যাপক লঙ্ঘিত হয়েছে। শীর্ষ দুই দল বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই লঙ্ঘনের মাত্রা সর্বাধিক। অফলাইন বা প্রত্যক্ষ প্রচারণা ব্যয় লঙ্ঘন হয়েছে নির্ধারিত সীমার তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ থেকে ৩২৮ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে শীর্ষে বিএনপি (৩২৭ দশমিক ৫ শতাংশ), স্বতন্ত্র (৩১৫ দশমিক ২ শতাংশ), জামায়াত (১৫৯ দশমিক ১ শতাংশ), জাতীয় পার্টি (১২৮ দশমিক ৬ শতাংশ) ও এনপিপি (১৯ দশমিক শূন্য শতাংশ)।

টিআইবির মতে, সার্বিকভাবে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য মাত্রায় সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক, প্রতিযোগিতামূলক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক হলেও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দল ও প্রার্থীরা অনেক ক্ষেত্রে আচরণবিধি প্রতিপালনে পরিপূর্ণ সফল হয়নি। কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতন হলেও রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের অনেকের মধ্যে ‘বিজয়ী হতেই হবে’ এই চর্চা অব্যাহত রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের পেইজ