মোঃ আহসান হাবীব সুমন, নিজস্ব প্রতিবেদক:
জামালপুরে শহর ছাত্রদল ও সদর পূর্ব ছাত্রদলের নবঘোষিত কমিটি নিয়ে ত্যাগী ও পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে সক্রিয় হওয়া ব্যক্তিদের দিয়ে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে কমিটি গঠনের অভিযোগ তুলে সোমবার বিকাল ৪-৩০ ঘটিকার সময় এক সংবাদ সম্মেলন করেন ত্যাগী পদবঞ্চিত ছাত্রদল নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানান, দীর্ঘ ১৬ থেকে ১৭ বছর রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা, হামলা-মামলা ও কারাবরণের শিকার নেতাকর্মীদের সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে বিতর্কিতভাবে শহর ছাত্রদল ও সদর পূর্ব ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে দলের ত্যাগী নেতাদের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
বক্তারা বলেন আমাদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ। আমরা কখনো বিশৃঙ্খলায় বিশ্বাস করি না। আমাদের দাবি যুক্তিসংগত ও ন্যায্য—এটা আমাদের অধিকার। কিন্তু স্বৈরাচারী কায়দায় ত্যাগীদের বাদ দিয়ে কমিটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যা আমরা মেনে নেব না।”
তারা আরও বলেন, যাদের দিয়ে কমিটি করা হয়েছে, তাদের রাজপথে আন্দোলনের ভূমিকা, মামলার ইতিহাস ও কর্মসূচির প্রমাণ জনসম্মুখে উপস্থাপন করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে নিজেদের আন্দোলন-সংগ্রামের সব প্রমাণ, মামলার কপি ও কর্মসূচির রেকর্ড বিএনপির মিডিয়া সেলে সংরক্ষিত আছে বলেও দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, যাদের অতীতে বারবার আন্দোলনে ডাকা হলেও তারা নানা অজুহাতে অনুপস্থিত থেকেছে কিংবা দল করবে না বলে অঙ্গীকার করেছিল, আজ তারাই দায়িত্ব পেয়ে ত্যাগীদের জায়গা দখল করেছে।
বক্তারা বলেন,
আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিক, আপোষহীন নেত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া ও দেশনায়ক তারেক রহমানের আগামী দিনের বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিবেদিত কর্মী। জীবন থাকতে আমরা ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন মেনে নেব না।”
তারা দেশনায়ক তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামের মিছিলের শেষ কর্মীই তার পরিচয় পাবে—কিন্তু দীর্ঘ সময় রাজপথে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার পরও আজ তাদের পরিচয় অস্বীকার করা হচ্ছে।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে জামালপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আতিকুর রহমান সুমিলের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেছেন—“আমরা ছাত্রদলের কেউ নই”, যা শুনে তারা গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছেন।
এক বক্তা বলেন,
“আমি শহর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি ছিলাম। অথচ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আমাকে চিনেন না—এটি তার অযোগ্যতা ও ব্যর্থতার প্রমাণ।”
বক্তারা জানান, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সোহেল রানা খান ও সাধারণ সম্পাদক দর্শন চৌধুরীর কমিটিতে তারা দায়িত্ব পালন করেছেন, যেখানে বর্তমান সভাপতি আতিকুর রহমান সুমিলও যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। অথচ আজ তিনিই তাদের ছাত্রদলের কর্মী বলে স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানান।
তারা অভিযোগ করেন, বর্তমানে জামালপুরে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে—অন্যায় মেনে নিলে আপনি ছাত্রদল ও বিএনপি করেন, আর প্রতিবাদ করলে আপনাকে দলীয় কর্মী হিসেবে অস্বীকার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, বর্তমান জেলা ছাত্রদলের ১০ সদস্যের কমিটির অধিকাংশ নেতাই তাদের দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা এবং তারাও মন থেকে এই কমিটি মেনে নেননি। তবে চাপের কারণে তারা প্রকাশ্যে মতামত দিতে পারছেন না।
বক্তারা অভিযোগ করেন, জেলা বিএনপি ও জেলা ছাত্রদলের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওয়ারেছ আলী মামুন একক সিদ্ধান্তে শহর ও পূর্ব ছাত্রদলের কমিটি গঠন করেছেন, যা দল ও আসন্ন নির্বাচন উভয়ের জন্য ক্ষতিকর হবে।
সবশেষে বক্তারা ত্যাগী নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে অবিলম্বে শহর ছাত্রদল ও পূর্ব ছাত্রদলের কমিটি পুনর্গঠন এবং ত্যাগীদের যথাযথ মূল্যায়নের জোর দাবি জানান।