বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মৃত্যুফাঁদের নাম ‘চায়না দুয়ারি’: নীরব ধ্বংসের মুখে দেশি মাছের অভয়াশ্রম সদরপুরে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ: ভুক্তভোগীর পাশে এমপি বাবুল, দ্রু ত বিচারের নির্দেশ আত্মত্যাগের চেতনাকে লাভজনক চেতনা বানাবেন না : তথ্যমন্ত্রী মানবপাচার বন্ধে আইনের শাসন নিশ্চিত করা জরুরি: রুহুল কবির রিজভী ঢাকা পৌঁছেছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গর ৫ মাসে কিছুই বদলায়নি, ঘুষখোররা এখনও ঘুষ খাচ্ছে : মির্জা ফখরুল মানবপাচারের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিবন্ধী ৩ ব্যক্তির হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী ঢাকাসহ ৯ অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টির আভাস, কমবে গরম মনোহরদীতে মোবাইল কোটে মাদক ব্যবসায়ী রাজীব চন্দ্র দেকে ১০ মাসের কারাদণ্ড প্রদান
জরুরী :
ওয়েবসাইট উন্নয়নের কাজ চলমান সাথেই থাকুন দেখতে থাকুন

খেলার মাঠে নাচের আয়োজন—ধর্মীয় ও সামাজিক মহলে ক্ষোভ

Reporter Name

 

আব্দুল মতিন মুন্সী ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি

ফরিদপুরে ঐতিহ্যবাহী রায় সাহেব ঈসান চন্দ্র ঘোষ স্মৃতি ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় নাচের আয়োজনকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। খেলাকে কেন্দ্র করে পুরো মাঠে ছিল হাজারো দর্শকের ভিড়। এমন সময় মাঠের চারদিক ঘিরে নৃত্য পরিবেশনা শুরু হলে উপস্থিত বহু দর্শক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের মতে—এ ধরনের আয়োজন স্থানীয় ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক শালীনতা ও পারিবারিক পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

দর্শকদের একজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা পরিবার নিয়ে খেলা দেখতে আসি। ছেলে-মেয়েদের সামনে এমন অশোভন আয়োজন গ্রহণযোগ্য নয়। খেলা আনন্দের জায়গা, কিন্তু তা যেন সঠিক সীমার মধ্যে থাকে।” অনেকেই অভিযোগ করেন, দিনের পর দিন গ্রামের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নষ্ট করে কিছু লোক অপ্রাসঙ্গিক বিনোদনকে ‘সংস্কৃতি’ হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা ধর্মীয় অনুভূতি ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে অনুচিত।

স্থানীয় ধর্মীয় নেতৃবৃন্দও বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য—খেলাধুলা সুস্থ সমাজ গঠনের অন্যতম মাধ্যম, কিন্তু খেলার মাঠকে কেন্দ্র করে নাচ বা অশালীন কোনো আয়োজন করা ইসলামি মূল্যবোধ ও সামাজিক নৈতিকতার পরিপন্থী। একজন আলেম বলেন, “খেলাধুলা উৎসাহ দেওয়া উচিত, কিন্তু শালীনতা নষ্ট হয় এমন কিছু কখনোই সমর্থন করা যায় না। যুবসমাজকে ভুল পথে ঠেলে দেওয়ার মতো আয়োজন বন্ধ হওয়া জরুরি।”

সামাজিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও বলা হয়—খেলার মাঠ হলো আনন্দ, শৃঙ্খলা ও প্রতিযোগিতার জায়গা। সেখানে নাচের আয়োজন করে সমাজের সামনে বিভ্রান্তিকর বার্তা দেওয়া হয়েছে। গ্রামের প্রবীণ এক জন বলেন, “এটা আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতি নয়। গ্রামের ছেলে-মেয়েদের সামনে এ ধরনের পরিবেশনা তাদের মানসিকতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।”

এদিকে আয়োজক কমিটির কয়েকজন সদস্য জানান—দর্শকদের আনন্দ দিতে তারা সাংস্কৃতিক অংশ যুক্ত করেছিলেন, তবে কারো অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল না। তারা ভবিষ্যতে যে কোনো অনুষ্ঠান আয়োজনের আগে স্থানীয় সমাজ, অভিভাবক, আলেম-ওলামা ও সচেতন নাগরিকদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার আশ্বাস দেন।

ঘটনাটি এখন এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই দাবি করছেন—এ ধরনের আয়োজন যেন পুনরায় না হয় এবং খেলাধুলাকে যেন সত্যিকারের আনন্দ ও সুস্থ বিনোদনের জায়গায় ফিরিয়ে আনা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের পেইজ