রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ল শ্রীবরদীতে বিলের পাড় থেকে ১৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার ছাতকে নিজের ঘরে বিদ্যুতের মেরামত করতে গিয়ে কৃষকের মৃত্যু সালথায় আসামির স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া করতে গিয়ে গনধোলাই খেলেন-এএসআই চিলমারীতে বাড়ির পাশ থেকে, শিশু আয়শা সিদ্দিকার ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার রাজশাহীর মোহনপুরে সাংবাদিক মোজাহারের জানাজা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠির নলছিটিতে সেলাই মেশিন, খেলাধুলার সামগ্রী ও মন্দিরে বাদ্যযন্ত্র বিতরন করেন এম পি ইলেন ভুট্টো জ্বালানি তেলের দাম না বাড়িয়ে সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে সরকার প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার : মাহদী আমিন নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারে আইনি ও নীতিগত কাঠামো সংস্কার প্রয়োজন
জরুরী :
ওয়েবসাইট উন্নয়নের কাজ চলমান সাথেই থাকুন দেখতে থাকুন

রাজশাহী মুসলিম হাই স্কুল এর প্রধান শিক্ষক মোঃ একরামুল হক এর পদত্যাগ দাবিতে মানববন্ধন।

Reporter Name

 

মোঃ আশিকুর রহমান বিপ্লব
জেলা প্রতিনিধি রাজশাহী

আমাদের বিদ্যালয়ের ইতিহাস সমৃদ্ধ ও ঐতিহ্যবাহী। রাজশাহী মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে মানসম্মত শিক্ষা প্রদান করে আসছে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মো. এনামুল হক (ইএনআই নম্বরঃ ১৩৪২১৪) বিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মচারীদের মানসিকভাবে হয়রানি করছেন, নারী সহকর্মীদের প্রতি অশোভন আচরণ করছেন এবং বিভিন্ন দুর্নীতিতে জড়িত রয়েছেন।

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগসমূহ

১. অর্থনৈতিক দুর্নীতি ও অনিয়ম
বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কাজের নামে মুসলিম থেকে প্রাপ্ত অর্থের অপব্যবহার, বিল-ভাউচার জালিয়াতি ও কমিশন বাণিজ্য চালু করেছেন।

২. শিক্ষক ও কর্মচারীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ
তিনি সহকর্মী শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে অশোভন ও অপমানজনক আচরণ করেন। নারী সহকর্মীদের প্রতিও অবমাননাকর মন্তব্য করেন, যা শিক্ষক সমাজে বিভক্তি সৃষ্টি করেছে।

৩. ছাত্রদের সাথে অনৈতিক আচরণ
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি অযথা কঠোরতা, অশালীন ভাষা প্রয়োগ এবং ভীতি প্রদর্শনের কারণে শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে।

৪. নারী সহকর্মীদের প্রতি অনৈতিক আচরণ
কর্মক্ষেত্রে মহিলা সহকর্মীদের (বিশেষতঃ সহকারী প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষিকা ও অফিস সহকারীদের) প্রতি অশালীন ইঙ্গিত, মন্তব্য ও অনুচিত আচরণ করেছেন, যা নারী কর্মীদের কর্মপরিবেশকে নষ্ট করছে।

৫. বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট ও প্রশাসনিক অনিয়ম
বিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম, ভর্তি, পরীক্ষা, ফলাফল ও অফিস ব্যবস্থাপনা সব কিছুতেই তিনি অনিয়ম করে যাচ্ছেন। এর ফলে বিদ্যালয়ের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দের পাঁচ দফা জরুরি দাবি

১. অবিলম্বে দুর্নীতিগ্রস্ত ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত প্রধান শিক্ষক মো. এনামুল হক-কে রাজশাহী মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রত্যাহার করতে হবে।
২. তদন্তপূর্বক অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৩. বিদ্যালয়ে স্থায়ীভাবে একজন সৎ, দক্ষ, শিক্ষানুরাগী ও সুনামধন্য প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে।
৪. নারী সহকর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
৫. বিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারের জন্য অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

আমাদের ৫ দফা জরুরি দাবি

বারবার অভিযোগ দিয়েও (মেমোঃ ২০/১০/২০২৪ তারিখে ২৩ জন শিক্ষককের অভিযোগ এবং ১৭/০৯/২০২৫ তারিখে ১৩ জন শিক্ষকের যৌথ অভিযোগপত্র) কোনো সুরাহা না হওয়ায় আমরা বাধ্য হয়ে আজ এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরছি।

আমাদের দাবিসমূহ:

১. অবিলম্বে (অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক) মো. এনামুল হক-কে অপসারণ করতে হবে।
২. তার বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি, প্রশাসনিক অনিয়ম, নারী সহকর্মীদের হয়রানি ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩. বিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে একজন যোগ্য শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দিতে হবে।
৪. মহিলা সহকর্মীদের প্রতি অনৈতিক আচরণের অভিযোগ তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা অফিসকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
৫. বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

সভাপতির বক্তব্যে অন্যান্য অভিযোগ উত্থাপন করা হয়

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এনামুল হক, ২০১৪-২৫ অর্থবছরে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন বাবদ প্রাপ্ত ৩ লাখ ২২ হাজার টাকার মধ্যে ২ লাখ ৪২ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের এসএসসি পরীক্ষার ফর্ম পূরণ বাবদ ২০২২ সালে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত টাকা আদায় করেছেন (প্রতি শিক্ষার্থী থেকে ৪০০০-৫০০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে)।

বিদ্যালয়ের হিসাব কমিটির সদস্যদের না জানিয়ে ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। পূর্বের বিল-ভাউচারগুলো বিদ্যালয়ে সংরক্ষণ না রেখে গোপনে ধ্বংস করা হয়েছে।

নারী সহকর্মীদের প্রতি অশালীন মন্তব্য ও আচরণ

কর্মক্ষেত্রে মহিলা সহকর্মীদের প্রতি তিনি একাধিকবার অশালীন আচরণ করেছেন। সহকারী শিক্ষিকা (নাম গোপন)-এর সঙ্গে বিভিন্ন সময় অনুচিত মন্তব্য করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ৩০-১০-২০১৮ তারিখে স্থানীয়ভাবে তদন্ত হলেও এখনও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এই ধরণের আচরণ হাইকোর্ট ডিভিশন ২০১০ সালের নির্দেশনা (মৌখিক হয়রানি প্রতিরোধ) আইনের পরিপন্থী।

সভা শেষে শিক্ষকরা বলেন,
“আমরা চাই, রাজশাহী মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিবেশ স্বাভাবিক হোক, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মর্যাদা ফিরে আসুক এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হোক।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের পেইজ