মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মৃত্যুফাঁদের নাম ‘চায়না দুয়ারি’: নীরব ধ্বংসের মুখে দেশি মাছের অভয়াশ্রম সদরপুরে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ: ভুক্তভোগীর পাশে এমপি বাবুল, দ্রু ত বিচারের নির্দেশ আত্মত্যাগের চেতনাকে লাভজনক চেতনা বানাবেন না : তথ্যমন্ত্রী মানবপাচার বন্ধে আইনের শাসন নিশ্চিত করা জরুরি: রুহুল কবির রিজভী ঢাকা পৌঁছেছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গর ৫ মাসে কিছুই বদলায়নি, ঘুষখোররা এখনও ঘুষ খাচ্ছে : মির্জা ফখরুল মানবপাচারের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিবন্ধী ৩ ব্যক্তির হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী ঢাকাসহ ৯ অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টির আভাস, কমবে গরম মনোহরদীতে মোবাইল কোটে মাদক ব্যবসায়ী রাজীব চন্দ্র দেকে ১০ মাসের কারাদণ্ড প্রদান
জরুরী :
ওয়েবসাইট উন্নয়নের কাজ চলমান সাথেই থাকুন দেখতে থাকুন

মৃত্যুফাঁদের নাম ‘চায়না দুয়ারি’: নীরব ধ্বংসের মুখে দেশি মাছের অভয়াশ্রম

শিমুল তালুকদার

মৃত্যুফাঁদের নাম ‘চায়না দুয়ারি’: নীরব ধ্বংসের মুখে দেশি মাছের অভয়াশ্রম

 

শিমুল তালুকদার, সদরপুর থেকে

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দারীর অভাবে

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদ-নদীতে নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি’ জালের অবাধ ব্যবহারে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। নদী ও খালের রেনু-পোনা থেকে শুরু করে প্রজননক্ষম মা মাছ কিংবা জলজ প্রাণী—কোনো কিছুই রক্ষা পাচ্ছে না এই কারেন্ট জালের চাইতেও ক্ষতিকর জাল থেকে। ফলে উপজেলার প্রাকৃতিক মৎস্য অভয়াশ্রমগুলো এখন মারাত্মক হুমকির মুখে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন নদী-নালা ও খালে অবাধে পোনা ও মা মাছ শিকার চলছে। আকোটেরচর স্লুইসগেট খালে বাঁশের শক্ত বাঁধ তৈরি করে নিচে ‘রাক্ষুসে জাল’ পেতে মাছ শিকারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এছাড়া চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের খেজুরতলা নদী এবং ভাষাণচর ইউনিয়নের ভূবনেশ্বর নদের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রকাশ্যে চায়না দুয়ারী, ভেসাল ও ক্ষতিকর রিং জাল পেতে রাখা হয়েছে। আইনের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকলেও প্রশাসনের কার্যকর তদারকি না থাকায় এসব নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার দিন দিন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।

উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে গিয়ে দেখা গেছে আরও ভয়াবহ দৃশ্য। স্থানীয় বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ ছোট সাইজের পোনা মাছ। পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় অসাধু জেলে ও ব্যবসায়ীরা পোনা মাছ নিধনের মহোৎসবে মেতে উঠেছে।

মাছ শিকারের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন জেলেরা। ঢেউখালী ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামের প্রবীণ জেলে জলিল মুন্সী বলেন, “আড়িয়াল খাঁ নদীতে এখন আর আগের মতো মাছ নেই। নতুন পানি আসার সাথে সাথেই অসাধু চক্র চায়না দুয়ারীসহ নানা রাক্ষুসে জাল দিয়ে রেনু-পোনা ধ্বংস করে ফেলছে। এদের এখনই না থামালে ভবিষ্যতে দেশীয় মাছের মুখ আর দেখা যাবে না।”

আকোটের চর ইউনিয়নের পদ্মার তীরবর্তী ছলেনামা গ্রামের আরেক জেলে আজাহার শেখ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “চায়না দুয়ারীর ফাঁস এতটাই সূক্ষ্ম যে, একবার পানিতে ফেললে মাছের ছোট পোনা তো দূরের কথা, অন্য কোনো জলজ প্রাণীও বের হতে পারে না। মাঝে মাঝে প্রশাসনের অভিযান চলায়, কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। এই জালের বাজারজাতকরণ ও তৈরির উৎস বন্ধ না করলে এবং নদীতে নিয়মিত নজরদারি না বাড়ালে নদী ফাঁকা হয়ে যাবে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কিছু জাল ধ্বংস ও আড়াআড়ি বাঁধ উচ্ছেদ করা হলেও তা এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় অতি সামান্য। আবার মৎস্য অফিসের পরিচয়ে গোপনে মোটা অংকের টাকা খেয়ে জেলেদের চায়না দোয়ারী ব্যবহারে উৎসাহ জোগাচ্ছে। আবার সেই লোকগুলো ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে জেলেদের বাড়িতে রাখা চায়না দোয়ারি জব্দ করে পুড়িয়ে দেওয়ার সহযোগিতা করার কারণে সম্প্রতি বলাশিয়া গ্রামে জেলেরা ক্ষিপ্ত হয়ে মৎস্য দপ্তরের লোকজনের উপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। পরে বিষয়টা নিউজ করার জন্য ঐ এলাকায় গিয়ে জানা গেছে যে মৎস্য দপ্তর এর এক দালাল ঐ এলাকার কয়েকজনের নিকট থেকে বিপুল অংকের টাকা নিয়েছে। চায়না দোয়ারি দিয়ে মাছ শিকারের বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি জেলেদের নিকট থেকে উৎকোচ আদায় করছে বলে তদন্তে জানা গেছে। এছাড়াও একটি চক্র ইলিশ মাছ ধরা নিশিদ্ধ সময়ে জেলেদের কাছ থেকে বিপুল অংকের টাকার বিনিময়ে ইলিশ ধরার সুযোগ দিয়ে থাকেন বলেও জানান অনেক জেলে।

আগামীতে দেশিয় প্রজাতির মাছ রক্ষার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ নিবেন এমন প্রত্যাসা সদরপুর উপজেলা বাসীর।

 

শিমুল তালুকদার

সদরপুর, ফরিদপুর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের পেইজ