মোঃ ফয়সাল হোসেন,বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান রাজশাহী:
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় মাটি পরীক্ষা ও খামারি এপস ব্যবহার করে ফসলের জন্য সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি ও সুষম সার ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কৃষক সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মোহনপুর উপজেলার আয়োজনে: বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার বাকশিমইল ইউপির খাঁড়ইল গ্রামে কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা খামারবাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ক্রপস উইং এর পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো: হজরত আলী। আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো: আজিজুর রহমান, রাজশাহী জেলার উপপরিচালক মোছা: উম্মে ছালমা, অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) শারমিন সুলতানা, জাহানাবাদ ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ সহ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোহনপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কামরুল ইসলাম। এ সময় প্রতিনিধি দল উপজেলার বিভিন্ন কৃষি কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এই পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য হল, মাঠ পর্যায়ে চলমান কৃষি বিষয়ক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা এবং কৃষকদের সাথে মতবিনিময় করে তাদের সমস্যা ও চাহিদা জানা। এছাড়াও, এই পরিদর্শনের মাধ্যমে সরকারের কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কর্মসূচি মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নে অগ্রগতি যাচাই করা এবং বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা, স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলা ও তাদের সমস্যা-সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করাই এই পরিদর্শনের মূল কাজ। এছাড়াও, ডিএই’র কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে চলমান বিভিন্ন প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতার আশ্বাস দিন। পরিশেষে, এই পরিদর্শনের মাধ্যমে মোহনপুর উপজেলার কৃষি খাতের উন্নয়ন ও কৃষকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে একটি কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।
এ সময় বক্তারা বলেন, মাটি হলো ফসলের খাদ্য ভান্ডার। গাছের বৃদ্ধি ও ফসলের জন্য প্রধানত ১৭টি অত্যাবশকীয় খাদ্য ও পুষ্টি উপাদন প্রয়োজন। যার কোন একটির ঘাটতি হলেই গাছের বৃদ্ধি ও ফলন ব্যহত হয়। পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি মেটাতেই আমরা জমিতে অপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন প্রকার সার দিয়ে থাকি। এতে মাটির উর্বরতা শক্তি ক্রমেই কমে যাচ্ছে ফলে ফসলের ফলন আশরুপ হচ্ছে না। এমতাবস্থায় প্রয়োজন মাটির উর্বরতা সংরক্ষণ করা। এজন্য মাটির উর্বরতা সংরক্ষণসহ ফসলের কাঙ্খিত ফলন বৃদ্ধির জন্য মাটি পরিক্ষা করে খামারি এপস ব্যবহার করে সুষম সার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় কৃষক কৃষাণীরা মাটি পরীক্ষা করে সুষম মাত্রায় সার ব্যবহার করে চাষাবাদ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে প্রদর্শনীভূক্ত ও প্রগতিশীল কৃষক/কৃষাণী উপস্থিত ছিলেন।