মোঃ নুরনবী বালিয়াডাঙ্গী:
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ৪নং বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন আরএমপি (RMP) কর্মসূচির নারী কর্মী নিয়োগের লক্ষ্যে লটারি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এ লটারি কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
লটারি কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে চাকরিপ্রত্যাশী নারীসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। কাঙ্ক্ষিত চাকরির সুযোগ পাওয়ার আশায় নারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আগ্রহ দেখা যায়। পুরো ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এ সময় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আরএমপি কর্মসূচির আওতায় ৪নং বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়ন থেকে মোট ১০ জন নারীকে লটারির মাধ্যমে নিয়োগের জন্য নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিত নারীরা এলাকার গ্রামীণ সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় মেরামতসংক্রান্ত কাজে নিয়োজিত থাকবেন। এর ফলে একদিকে যেমন গ্রামীণ সড়কের স্থায়িত্ব ও চলাচলের উপযোগিতা বজায় রাখতে সহায়তা হবে, অন্যদিকে স্থানীয় নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
লটারি কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মাসুদুল আলম এবং ৪নং বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শাহাবুদ্দিন মিয়া (চাবি)। এ সময় উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলীগণ, ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
লটারি চলাকালে চাকরিপ্রত্যাশী নারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎকণ্ঠা লক্ষ্য করা যায়। কাঙ্ক্ষিত সুযোগ পাওয়ার প্রত্যাশায় অনেক নারী অধীর আগ্রহে লটারির ফলাফলের অপেক্ষা করেন।
স্থানীয়দের মতে, আরএমপি কর্মসূচি গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারের নারীরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পেলে নিজেদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে পারবেন। একই সঙ্গে এলাকার গ্রামীণ রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থাও আরও সচল রাখতে সহায়তা হবে।
সব মিলিয়ে এলজিইডির আরএমপি কর্মসূচির আওতায় বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নে ১০ জন নারীকে নিয়োগের এ উদ্যোগ স্থানীয় নারীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা রক্ষায় এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।