মোঃ ফয়সাল হোসেন,বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান রাজশাহী:
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মানবতার ফেরিওয়ালা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আয়েশা সিদ্দিকা, উপহার দিয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ইউএনও’র মানবিক উপহার পেয়ে খুশী হন”স্বেচ্ছাশ্রম”ট্রাফিক নামের সেই আল-মামুন। বিনা বেতনে কাজ করা, কোনো বেতন বা আর্থিক সুবিধা ছাড়াই পারিশ্রমিক না নিয়ে নির্লস ভাবে কাজ করা।
বিনা বেতনে খাটা বা মনের জোরে খাটতে বাধ্য হওয়া বেগার ব্যক্তিটি হচ্ছে ট্রাফিক আল-মামুন। তিনি উপজেলার ১নং ধুরইল ইউনিয়নের ভীমনগর গ্রামের সমতুল্লা প্রামাণিকের ছেলে আল-মামুন(৩০), এলাকায় তাকে আলমাস নামে ডাকে,স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আল-মামুন সামান্য মানসিক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী তারপরও সে দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহী-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের সইপাড়া মোড় নামক স্থানে দাঁড়িয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ট্রাফিকের ভূমিকায় ডিউটিরত দায়িত্ব পালন করছেন। মহাসড়কের ব্যস্ততম চৌরাস্তার মোড়ে যানজট নিরসনে পথচারী সহ স্কুল পড়ুয়া শিশুসহ যে কোন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিরাপদে সড়ক পারাপারে ট্রাফিক ভূমিকায় দুর্ঘটনা নিশ্চিত এড়াতে তার প্রশংসনীয় ভূমিকা অবিচল। তাঁর মহৎ উদ্দেশ্য বা সামাজিক কাজের জন্য বিনা বেতনে স্বেচ্ছায় কাজ করাই তাকে যে কোন গাড়ির চালক, যাত্রী বা পথচারীরা ভালোবেসে যে টাকা দেন, সেটাই তার একমাত্র রুজির কর্মস্থল।এই বিষয়টি ইউএনও’র দৃষ্টিকোচর হলে তাকে উপহার হিসাবে ২টি প্যান্ট, ২ জোড়া জুতা, ২ জোড়া মোজা, ২টি বেল্ট এবং রোদের সময় ব্যবহারের উপযোগী ২টি মাথার ক্যাপ, আল-মামুন উপহার পেয়ে আরও জোরতাল প্রশংসনীয় ডিউটিরত রয়েছেন।
এ বিষয়ে মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও)আয়শা সিদ্দিকা’র বক্তব্য ছিল, আল- মামুন মানুষের কল্যাণে বিনা স্বার্থে কাজ করার যে মানসিকতা দেখিয়েছেন, তা সমাজের মানুষদের জন্য অনুকরণ বা দৃষ্টান্তমূলক এবং উদাহরণযোগ্য। তাঁর এই সাফল্যের সামান্যতম উপহার পেয়েছে।
“বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন”
‘প্রতিভা কোনো সীমাবদ্ধ সিদ্ধিতে সন্তুষ্ট থাকে না, অসন্তোষই তার জয়যাত্রা পথের সারথি’
“যেমন রয়েছে”সরকারি অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে জনগণের অনেক অভিযোগ। এর মধ্যে ব্যতিক্রম জনবান্ধব, পরিশ্রমী মোহনপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার ( ইউএনও)’র আয়শা সিদ্দিকা,তাঁর সততা ও কর্মদক্ষতায় পাল্টে গেছে উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও সার্বিক চিত্র। সরকারি-বেসরকারি প্রতিটি দপ্তরের কর্মকাণ্ডে ফিরে এসেছে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা। কমেছে জনভোগান্তি আর বৃদ্ধি পেয়েছে জনসেবার মান। মোহনপুর উপজেলায় যোগদানের পর থেকে তাঁর সততা ও কর্মদক্ষতায় পাল্টে গেছে উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও সার্বিক চিত্র। সরকারি-বেসরকারি প্রতিটি দপ্তরের কর্মকাণ্ডে ফিরে এসেছে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা। কমেছে জনভোগান্তি আর বৃদ্ধি পেয়েছে জনসেবার মান। উপজেলাকে একটি উন্নত আধুনিক জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে নিরালসভাবে কাজ করছেন তিনি। জনবান্ধব এই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কর্মকাণ্ডে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উপজেলার সৎ জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। উপজেলার যেকোনো অবৈধ ও অন্যায় কাজের বিরুদ্ধে তিনি সবসময় সোচ্চার। তিনি কোনো অভিযোগ পেলে তাঁর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেন। তা ছাড়া গণমাধ্যম, ফেসবুক, মুঠোফোনের মাধ্যমে পাওয়া বিভিন্ন অভিযোগ দ্রুত সমাধান ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। প্রশংসনীয় কাজে (ইউএনও) আয়েশা সিদ্দিকা, উপজেলায় দায়িত্বরত জায়গা থেকে যা করণীয় ছিল,সাধারণত জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড, যেমন – সরকারি সেবা সহজলভ্য করা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, এবং সরকারি নীতির সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘব করা।
উপরোক্ত বিষয়ে ইউএনও- তাঁর কর্মদক্ষতা ও মানবিক কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।