শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৯ অপরাহ্ন
জরুরী :
ওয়েবসাইট উন্নয়নের কাজ চলমান সাথেই থাকুন দেখতে থাকুন

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে আলোচনায় কারা

অনলাইন ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভের পর এবার সংরক্ষিত ৫০টি আসনের মধ্যে ৩৫টি আসন পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে বিএনপি। ইতিমধ্যে এই নির্বাচন নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন পেতে বিএনপি ও দলের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেত্রীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।

বহুলপ্রত্যাশিত এই আসনে কারা মনোনয়ন পাচ্ছেন, তা নিয়ে জোরালো হচ্ছে আলোচনা।
বিধি অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। একটি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে ছয়জন নির্বাচিত সংসদ সদস্য থাকা প্রয়োজন। সেই হিসাব অনুযায়ী বিএনপি ৩৫টি আসন, জামায়াতে ইসলামী ১১টি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একটি আসন পাবে।

বাকি তিনটি আসন নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা জোট করলে এবং নিজস্ব প্রতীকে জয়ী দলগুলো নিজেদের মধ্যে সমঝোতা পৌঁছালে তারা পাবেন।
সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় রয়েছেন যারা
সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় জ্যেষ্ঠদের মাঝে মিরপুর-পল্লবীর বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ডিএনসিসির সাবেক কাউন্সিলর বেগম মেহেরুন্নেসা হকের নাম বলতেই হয়। তিনি দীর্ঘ দুই দশক ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে পল্লবী–মিরপুর অঞ্চলে নিষ্ঠা, সততা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। এখনো এলাকার বাসিন্দাদের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

দলীয় আন্দোলন-সংগ্রাম ও প্রতিটি সংকটময় সময়ে তিনি রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। ৩৮টিরও অধিক মামলার আসামি হন, ৭০ বছর বয়সেও বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তারসহ মেহেরুন্নেসার পরিবার বেশ নির্যাতিত হয়েছেন।
আলোচনার তালিকায় আরো আছেন— মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস। তিনি ঢাকা-৮ আসনের এমপি মির্জা আব্বাসের স্ত্রী। বিভিন্ন সময় হামলা ও মামলা শিকার হয়েছেন।
এ ছাড়া মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী, বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আকতার জাহান শিরিন, কেন্দ্রীয় নেত্রী শিরিন সুলতানা, সাবেক এমপি শাম্মী আকতার, নিলোফার চৌধুরী মনি, আসিফা আশরাফী পাপিয়া, রাশেদা বেগম হীরা, রেহেনা আকতার রানু, ইয়াসমিন আরা হক, জাহান পান্না, বিলকিস ইসলাম ও ফরিদা ইয়াসমিনের নামও ঘুরছে আলোচনায়।
এ ছাড়া সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনিন, রিজিয়া পারভিন ও কনক চাঁপা এবং ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসিম উদ্দিন মওদুদের নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, বিএনপি নেত্রী অপর্ণা রায়, অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, মহিলা দলনেত্রী শাহানা আকতার সানু, নিয়াজ হালিমা আর্লি ও রাবেয়া আলমের নামও শোনা যাচ্ছে। ঝালকাঠি জেলা বিএনপি নেত্রী জেবা আমিন খান, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস, ময়মনসিংহ জেলা মহিলা দলের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেত্রী তানজিন চৌধুরী লিলি, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা উর্মি ও শাহিনুর সাগরও আলোচনায় রয়েছেন।

একেবারে তরুণদের মাঝে শোনা যাচ্ছে ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক রেহানা আক্তার শিরিনের নাম। তিনি ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটিতেও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা শিরিনের বাবা মরহুম হাজী বোরহান উদ্দীন আড়াইহাজার থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পরিবারটির অন্য সদস্যরাও স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয়।

এ ছাড়া ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম (তুলি), স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মরহুম শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হুসাইন, ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরী এবং সিলেটের সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনের মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেনের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী ও সাবেক এমপি হাসিনা আহমদের নামও এ তালিকায় উল্লেখযোগ্যভাবে উঠে এসেছে।

বিএনপির সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা, চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি ও সাধারণ সম্পাদক জেলী চৌধুরী, উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি মেহেরুন নেছা নার্গিস, দক্ষিণ জেলা মহিলা দলের সভাপতি জান্নাতুল নাঈম রিকু, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক কাউন্সিলর জেসমিনা খানম, জাসাসের কেন্দ্রীয় নেত্রী নাজমা সাঈদ ও ফটিকছড়ির গুম হওয়া বিএনপি নেতা শহিদুল আলম সিরাজ চেয়ারম্যানের সহধর্মিণী সুলতানা পারভীনের নামও আলোচনায় রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের পেইজ