বিশ্বজিৎ পাল, বিশেষ প্রতিনিধি,রাজবাড়ী :
রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের বেতেংঙ্গা গ্রামে শুরু হয়েছে শ্যামা মায়ের কালীপূজা । তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী ১৪ হাত শ্যামা মায়ের কালী পূজা। ২০ অক্টোবর, (২০২৫)সোমবার থেকে শুরু হওয়া চার দিনব্যাপী এই পূজা ঘিরে মন্দির প্রাঙ্গণসহ পুরো এলাকা উৎসব মুখর হয়ে উঠেছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্ত মোমবাতি ও মিষ্টি প্রসাদ নিয়ে ছুটে এসেছেন, যা এক ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মিলনমেলার সৃষ্টি করেছে। সম্মিলিত উদ্যোগে আয়োজিত এই পূজা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি এই অঞ্চলের মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছবি। বেতেংঙ্গা গ্রামের এই ১৪ হাত কালী পূজা এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। লোকমুখে প্রচলিত আছে, এই কালী প্রতিমা অত্যন্ত জাগ্রত এবং ভক্তদের মনোবাসনা পূর্ণ করে। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে এই পূজা এই অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ও জনপ্রিয় শ্যামা পূজা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। প্রতি বছর কালীপূজা উপলক্ষে আয়োজিত এই বিশেষ পূজায় ১৪ হাত বিশিষ্ট বিশাল আকৃতির কালী প্রতিমা তৈরি করা হয়, যা ভক্তদের মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে। এই পূজা হিন্দু ধর্মের মানুষের কাছে ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের এক প্রতীক। পূজা উপলক্ষে মন্দিরের চারপাশে বসে বিভিন্ন ধরনের মেলা, যেখানে গ্রামীণ সংস্কৃতির নানা দিক ফুটে ওঠে।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সচেতন মহল, স্থানীয় জনসাধারণ এবং পূজা উদযাপন কমিটি এবার বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা রুখতে প্রশাসনের কাছে বাড়তি সতর্কতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের আবেদন জানানো হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে।
পূজা প্রাঙ্গণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সাদা পোশাকে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা নজরদারি করছে।
যেকোনো ধরনের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড বা গুজব ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অন্যান্য প্রচারমাধ্যম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মহোদয়।
পূজা উদযাপন কমিটির ভূমিকা: পূজা কমিটি নিজেরাই স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করেছে। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সার্বিক সহযোগিতা করছেন এবং ভক্তদের মধ্যে সচেতনতামূলক প্রচার চালাচ্ছেন। স্থানীয় জনগণ, বিশেষ করে তরুণ সমাজ, পূজার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সক্রিয় ভাবে কাজ করছে বলে পূজা কমিটি দৈনিক তদন্ত অনলাইন মিডিয়া সাংবাদিকে জানান।