ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সংঘাত ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা বিবেচনায় ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ধরনের ফ্লাইট স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। একইসঙ্গে যাত্রীদের জন্য দেওয়া হয়েছে জরুরি বার্তা।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানায়, দাম্মাম, জেদ্দা, মদিনা, রিয়াদ, শারজাহ, আবুধাবি, দুবাই ও কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব গন্তব্যের ফ্লাইট পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রয়েছে।
এ অবস্থায় সরাসরি বিমানবন্দরে এসে ভোগান্তিতে না পড়তে যাত্রীদের হটলাইন নম্বর ১৩৬৩৬-এ যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিমান কর্তৃপক্ষ বলছে, অনেক যাত্রী ফ্লাইট স্থগিতের খবর না জেনে বিমানবন্দরে চলে আসছেন, এতে অযথা ভিড় ও বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। তাই যাত্রীদের সর্বশেষ তথ্য নিশ্চিত হয়ে তবেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি দুঃখ প্রকাশ করে জানায়, যাত্রীদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার; পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
এর আগে, স্থানীয় সময় শনিবার ইরানের রাজধানী তেহরানসহ অন্তত ছয়টি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র। হামলার আগেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে ‘নিরাপদ স্থানে’ সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫১ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পাল্টা জবাবে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরানও।
একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে তেহরান। এতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে একজন নিহত হয়েছেন। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বিভিন্ন দেশের এয়ারলাইন্স মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট স্থগিত বা বাতিল করেছে।
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপ শুরু হয়েছিল। কিন্তু শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় কোনো ধরনের সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়াই সংলাপ শেষ হয়।
এরপরই ইরানে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৩ জুন ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও ড্রোন সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। যুক্তরাষ্ট্রও সেই অভিযানে অংশ নেয়। সেসময় ইরানের তিনটি প্রধান পরমাণু কেন্দ্রে আঘাতের দাবি করে পেন্টাগন।
১২ দিনের সংঘাত শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস চরমে পৌঁছে যায়। সেই যুদ্ধ-পরবর্তী উত্তেজনাই এ বছরের সংকটের ভিত গড়ে দেয়।