ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ বলেছেন, ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে পৌঁছে দিতে একটি ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতি তৈরি করা হচ্ছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ভূমি মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ব ব্যাংক এর যৌথ আয়োজনে বাংলাদেশে ভূমিসেবা ও ভূমি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন বিষয়ক অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
সালেহ আহমেদ বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া এখনো অনেক ক্ষেত্রে সময়সাপেক্ষ, জটিল এবং নাগরিকদের জন্য কষ্টকর। ভূমি কেবল একটি সম্পদ হিসেবে নয়; এটি মানুষের জীবিকা, সম্মান, সামাজিক নিরাপত্তা এবং আবেগের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।সে জন্য ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় দক্ষতার পাশাপাশি স্বচ্ছতা , জবাবদিহিতা এবং মানবিকতা নিশ্চিত করা সরকারের একটি মৌলিক নীতিগত অঙ্গীকার।
কর্মশালায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. এমদাদুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধি হিসেবে শ্রী কুমার তাদিমাল্লা, ডং কিউ কোয়াক ও মো. আক্তারুজ্জামান বক্তব্য রাখেন।
সালেহ আহমদ বলেন, ‘সরকার এখন এডহক এপ্রোচ থেকে বেরিয়ে এসে একটি নিয়মতান্ত্রিক ডিজিটাল ভূমি অধিগ্রহণ কাঠামো প্রতিষ্ঠার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ভূমি মন্ত্রণালয় স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও ভূমি হুকুম দখল বিধিমালার খসড়া প্রস্তুত সম্পন্ন করেছে।
ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতি চালু হলে দীর্ঘসূত্রিতা, হয়রানি হ্রাস পাবে এবং পুরো ভূমি অধিগ্রহণের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরো শক্তিশালী হবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজকের এই মতবিনিময় থেকে প্রাপ্ত সুপারিশসমূহ আমাদেরকে একটি অধিকতর দক্ষ,স্বচ্ছ এবং জনবান্ধব ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া গড়ে তুলতে বাস্তবভিত্তিক দিকনির্দেশনা দেবে—যা দেশের উন্নয়নকে আরো গতিশীল করবে এবং জন-হয়রানি কমে যাবে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কর্মশালায় ভূমি অধিগ্রহণের জন্য একটি প্রমিত পরিচালন পদ্ধতি বা এসওপি উপস্থাপন করা হয় এবং অংশীজনদের মতামত গ্রহণ করা হয়। সবার মতামতের আলোকে এই এসওপি চূড়ান্ত করা হবে।আশা করা যায় এর মাধ্যমে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া আরো সহজ, দ্রুত ও জনবান্ধব হবে, যা দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে।