ডিএপি ফার্টিলাইজার কম্পানি লিমিটেডের (ডিএপি-এফসিএল) পরিবহন ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ দিয়ে গত বছর কালো তালিকাভুক্ত একটি প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় কাজ পাইয়ে দিতে তোড়জোড় চালাচ্ছে ডিএপি কর্তৃপক্ষ। এমনকি ওই নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে টেন্ডারের শর্ত পর্যন্ত শিথিল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে সার সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রণাধীন ডিএপি-এফসিএলতে ৫টি বাফার গুদামে সার পরিবহনের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হলে সেখানে ‘মেসার্স হযরত শাহ সৈয়দ মাক্কি ট্রেডার্স’ নামের একটি বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানটি অংশগ্রহণ করে। শুধু তাই নয়, তারা সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজ পাওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। অথচ প্রতিষ্ঠানটি গত বছর ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ জমা দিয়ে ধরা পড়ে। অভিযোগের সত্যতা মেলায় প্রতিষ্ঠানটিকে বিসিআইসি কর্তৃক কালো তালিকাভুক্ত করে।কালো তালিকাভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে সরকারি দরপত্রে অংশগ্রহণের যোগ্য নয়।
অভিযোগ উঠেছে, ওই বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ পাইয়ে দিতেই অভিজ্ঞতার এই শর্ত শিথিল করা হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে ডিএপি-র পরিবহন ঠিকাদার হওয়ার জন্য কমপক্ষে ৫ হাজার মেট্রিক টন সার পরিবহনের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু চলতি বছরের দরপত্রে সেই শর্ত রহস্যজনকভাবে কমিয়ে ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টনে নামিয়ে আনা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে সার আমদানিতে এক ধরনের অনিশ্চয়তা কাজ করছে। এই অবস্থায় কৃষকদের কাছে নিরবচ্ছিন্ন সার সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এমন সংকটকালীন সময়ে সরবরাহ চেইনে দক্ষ ও সৎ ঠিকাদারের পরিবর্তে কালো তালিকাভুক্ত ও অদক্ষ প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দিলে পুরো কৃষি ব্যবস্থা বিপর্যয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ নিয়ে সাধারণ পরিবহন ঠিকাদারদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঠিকাদার বলেন, ‘কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান কিভাবে দ্রুত ফিরে আসে এবং তাদের সুবিধা দিতে শর্ত বদলে ফেলা হয়, তা আমাদের অবাক করছে।
কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশ ছাড়া এটি অসম্ভব।’
‘মেসার্স হযরত শাহ সৈয়দ মাক্কি ট্রেডার্স’ নামের প্রতিষ্ঠানটি টেন্ডারে অংশ নিয়েছে জানিয়ে ডিএপিএফসিএল-এর উপ-মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) রবিউল আলম খান বলেন, প্রতিষ্ঠানটি এক বছরের জন্য কালো তালিকাভুক্ত হয়েছিল, সেই মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। আর প্রতিযোগিতার পরিধি বাড়ানোর জন্য অভিজ্ঞতার শর্ত কমিয়ে আনা হয়েছে। কারো একজনের জন্য না, ওভারঅল সব টেন্ডারের জন্য এটি করা হয়েছে।