মোঃ আহসান হাবীব সুমন নিজস্ব প্রতিবেদক:
জামালপুরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের সমাজের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে
অস্ট্রেলিয়া সরকারের সহায়তায় এবং অস্ট্রেলিয়ান এনজিও কো-অপারেশন প্রোগ্রামের (এএনসিপি) অর্থায়নে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ ও উন্নয়ন সংঘ -এর ‘জেন্ডার ইনক্লুসিভ মার্কেট সিস্টেমস ফর ইম্প্রুভড নিউট্রিশন (জেসমিন)’ প্রকল্প। সমাজসেবা অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বিত অ্যাডভোকেসি কার্যক্রমের মাধ্যমে এই প্রকল্পের আওতায় জেলার ৪টি উপজেলায় এ পর্যন্ত ৪১২ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ‘সুবর্ণ নাগরিক কার্ড’ ও সরকারি ভাতা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় সোমবার (আজ) জামালপুর সদর উপজেলায় ১১ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তির মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত অক্টোবর ২০২৫-এ জামালপুর প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের সঙ্গে অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে ৩০ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তির জন্য সহায়ক উপকরণের আবেদন করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে সোমবার নির্বাচিত ১১ জনের হাতে কাঙ্ক্ষিত হুইলচেয়ার তুলে দেওয়া হয়।
কর্মকর্তারা জানান, কেবল জামালপুর সদর উপজেলাতেই ২৪১ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে সরকারি সুবিধার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। পরবর্তীতে জেলার দেওয়ানগঞ্জ ও মেলান্দহ উপজেলায় নির্বাচিত আরও সুবিধাভোগীদের মাঝে হুইলচেয়ার ও ট্রাই-সাইকেল বিতরণ করা হবে।
বিনামূল্যে হুইলচেয়ার পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন উপকারভোগীরা। শ্রীপুর এলাকার এক সুবিধাভোগীর স্বামী জাহাঙ্গীর বলেন, ‘‘আমার স্ত্রী অসুস্থতার কারণে চলাফেরা করতে পারতেন না। আমরা আগে জানতামই না কোথায় বা কীভাবে আবেদন করলে সরকারি সাহায্য পাওয়া যায়। আজ বিনামূল্যে এই হুইলচেয়ারটি পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। জেসমিন প্রকল্প, ওয়ার্ল্ড ভিশন এবং সরকারের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।’’’
তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রকৃত সুবিধাভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে ওয়ার্ল্ড ভিশনের জেন্ডার, ডিআরআর এবং ক্লাইমেট চেঞ্জ অফিসার সাদেকা বেগম বলেন, ‘‘কাজটি শুনতে সহজ মনে হলেও ৪টি উপজেলার ২৭টি ইউনিয়ন থেকে প্রকৃত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা এবং সমন্বয়ের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ওয়ার্ল্ড ভিশন ম্যানেজমেন্টের ঐকান্তিক সহায়তায় আজ এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। আমাদের মূল লক্ষ্যই হলো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা।’’
সরকারি-বেসরকারি এই যৌথ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন জামালপুর প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা ইশরাকী ফাতেমা। তিনি বলেন, ‘‘ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের জেসমিন প্রকল্প আমাদের কাজকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। আমি আশাবাদী, ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবা বা অন্য কোনো সহায়তার সুযোগ এলে ওয়ার্ল্ড ভিশন ও উন্নয়ন সংঘ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে এবং আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করব।’’
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ স্থানীয় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাফেরা সহজ করার পাশাপাশি তাদের সামাজিক অন্তর্ভুক্তিকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে।