ফরিদপুর প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চর চাঁদপুর
কোলচুরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক। এ নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে মুন্নাফ শেখ এবং ২৫ থেকে ৩০ জন অভিভাবকসহ গ্রামবাসীরা এই অভিযোগগুলো তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সদরপুর উপজেলার চর চাঁদপুর কোলচুরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আঃ সামাদ মাস্টারের সঙ্গে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি ও সভাপতির পদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, কমিটির সভাপতি নির্বাচনের বিষয়কে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ওই বিরোধের জেরে কয়েকজন অভিভাবককে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিভাবকদের দাবি, সাবেক প্রধান শিক্ষক আঃ সামাদ মাস্টারের দুই ছেলে পারভেজ শেখ ও সাদি শেখ এবং বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষককে ঘিরেও তাদের মধ্যে নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, বর্তমান প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিবাহ রেজিস্ট্রি, পশু চিকিৎসা ও স্থানীয় মাতব্বরির মতো বিভিন্ন কাজে যুক্ত থাকায় নিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ে সময় দিতে পারেন না—এমন অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি অভিভাবকদের।
অভিভাবকদের ভাষ্য, শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগের কারণে তারা তাদের সন্তানদের নিকটবর্তী চর চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছেন। একই সঙ্গে বিদ্যালয় ও এর আশপাশের পরিবেশ নিয়ে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিভাবকদের ছয় দফা দাবি
লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।
১. শিক্ষার্থীরা যেন নিরাপদ পরিবেশে বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।
২. সাবেক প্রধান শিক্ষক আঃ সামাদ মাস্টার ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৩. সামাদ মাস্টার গং যেন তাদের কোন ক্ষতি করতে না পারে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া ।
৪. বর্তমান প্রধান শিক্ষকের বিভিন্ন পেশা ও দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।
৫. বিদ্যালয়ের প্রকৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যা নিয়ে তদন্ত করা। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ে প্রকৃত শিক্ষার্থী প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ জন হলেও বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০৭ জন দেখানো হচ্ছে। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
৬. কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
লিখিত বক্তব্যে অভিভাবকরা বলেন, তারা কোনো ধরনের প্রতিশোধ বা বিরোধ চান না। তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো সন্তানদের নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তদন্তসাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।