ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজবাড়ী-২ আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয় অর্জন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদ হারুন। এই জয়কে রাজবাড়ীর রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য ও স্মরণীয় ঘটনা হিসেবে দেখছেন স্থানীয় রাজনীতি সংশ্লিষ্ট মহল।
বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, হারুনুর রশিদ হারুন তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে বিশাল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। ভোট গণনার শুরু থেকেই প্রায় সব কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থনের চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ এবং ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই নির্বাচনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিপুল সমর্থন বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রাজবাড়ীর রাজনৈতিক ইতিহাসে এই প্রথম হিন্দু ভোটাররা সংগঠিতভাবে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেন, যা নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে।
মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই হারুনুর রশিদ হারুন দলের ভেতরের কোন্দল নিরসনে তৎপর হন। ইউনিয়ন থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে একটি শক্তিশালী নির্বাচনী কাঠামো গড়ে তুলতে সক্ষম হন তিনি। তৃণমূলের এই ইস্পাতকঠিন ঐক্যই শেষ পর্যন্ত বিজয়কে সহজ করে দেয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নির্বাচনের আগে ঘোষিত তার ১২ দফা ইশতেহারে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষকের ন্যায্যমূল্য এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এসব বাস্তবভিত্তিক প্রতিশ্রুতি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
রাজপথের ত্যাগী ও সংগ্রামী নেতা হিসেবে পরিচিত হারুনুর রশিদ হারুন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া-এর স্নেহধন্য এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর আস্থাভাজন নেতা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত।
এ বিষয়ে সাধারণ ভোটারদের অনেকেই বলেন, রাজপথে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের ওপর জনগণের আস্থা এখনও অটুট। বিরোধী পক্ষের নানা কৌশল ব্যর্থ করে দিয়ে হারুনুর রশিদ হারুনের এই বিপুল বিজয় রাজবাড়ীর উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।