পড়ালেখার ধরন বদলেছে। সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে নকলের সুযোগ কম। আর গত এক যুগে নকল অনেকটাই বিলুপ্ত হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষাব্যবস্থা থেকে। অথচ শিক্ষামন্ত্রী এখনো নকলের পেছনেই পড়ে রয়েছেন। প্রতিটি সভা-সমাবেশে আগের মতো নকল প্রতিরোধের কথা বলছেন।
শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ বলছেন, শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন এখনো দুই দশক পেছনেই পড়ে রয়েছেন। শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত কঠোর নিয়ম চাপিয়ে দেওয়াসহ পরীক্ষা নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ এনে সম্প্রতি পঞ্চগড়ে ও নীলফামারীতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন
এসএসসির একদল পরীক্ষার্থী। তাদের অভিযোগ, পরীক্ষা নিয়ে কড়াকড়ি থাকতেই পারে। কিন্তু মন্ত্রী যেভাবে সিসি ক্যামেরাসহ নানা আয়োজন নিয়ে পরীক্ষার্থীদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছেন তা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করেছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ভর্তিতে লটারি ব্যবস্থা বাতিল করে পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করেছে। এ দুই বিষয় নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে সরকার।
ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এ প্রতিবেদককে বলেন, বর্তমান সরকার পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রী ভর্তির যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা সঠিক হয়নি। এ দেশের শিক্ষাব্যবস্থা পরীক্ষানির্ভর
হয়ে গেছে। এটি হতে হবে শিখননির্ভর। ক্লাসে শেখাতে হবে ছাত্রছাত্রীদের।
তিনি বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য শিক্ষকের মানোন্নয়ন জরুরি। মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আনতে হবে। দুর্নীতির বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ হতে হবে। একই সঙ্গে তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে।
সম্প্রতি জ্বালানি সাশ্রয়ের কথা বলে ঢাকা মহানগরীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ও তিন দিন সশরীরে পাঠদান কার্যক্রম চালু করেছে সরকার। এ নিয়েও চলছে সমালোচনা। কারণ অনেক পরিবারে শিক্ষার্থীর সংখ্যা একাধিক থাকলেও অনলাইন ক্লাস করার ডিজিটাল ডিভাইস একাধিক নেই। শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে ডিজিটাল ডিভাইস আসক্তিও।
সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন সিলেটে গিয়ে
এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘৭০০-৮০০ স্কুলের শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী, অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করলাম। একজনও অনলাইন ক্লাস চায় না। আমিও চাই না।’ এরপরও শিক্ষার্থীদের ওপর অনলাইন ক্লাস চাপিয়ে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবকরা।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, জ্বালানি সাশ্রয়ের কথা বলে যাচাইবাছাই না করে ফের অনলাইন চালু করা হলো। অথচ আরও অনেক বিকল্প ভাবা যেত। অনলাইন শিক্ষার ফলাফল কেমন হয় তা আমরা করোনা পরবর্তী সময়ে দেখেছি। এর মাধ্যমে ডিভাইস আসক্তি বাড়বে। তিনি বলেন, এ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষার উন্নয়নে ১২ দফা প্রস্তাবনা দেন। কিন্তু এরপর অবাক হয়ে দেখলাম তারা শুধু পরীক্ষাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন।
আসলে তারা কোন পথে হাঁটছেন তা বোধগম্য নয়।
শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের নানা অভিযোগের ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের বক্তব্য জানতে গত কয়েক দিনে বেশ কয়েকবার তাঁর মোবাইল নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন