মোঃ আরিফ শেখ , ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি:
ফরিদপুর সদর উপজেলার কোতয়ালী থানাধীন কমলাপুর মৃধাবাড়ী এলাকায় একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) তিন কর্মকর্তার ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা, মারধর ও নগদ অর্থ ছিনতাইয়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজনকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গোয়ালচামট এলাকায় পরিচালিত টিএমএসএস সমিতির জোনাল ম্যানেজার আবু বকর ছিদ্দিক কোতয়ালী থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সমিতির এক সদস্য পূর্বে নেওয়া ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ না করেও পুনরায় এক লাখ টাকা ঋণের দাবি করেন। সমিতির নীতিমালা অনুযায়ী ওই ঋণ প্রদান করতে অস্বীকৃতি জানানো হলে সংশ্লিষ্ট সদস্য ও তার সহযোগীদের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার দিন সকালে টিএমএসএস সমিতির ফিল্ড অফিসার জয় মন্ডল নিয়মিত সাপ্তাহিক কেন্দ্র বৈঠকে অংশ নিতে গেলে অভিযুক্তরা পুনরায় তার কাছে ঋণের দাবি জানান। ঋণ দেওয়া সম্ভব নয় জানালে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং শারীরিকভাবে মারধর করে জোরপূর্বক আটকে রাখার অভিযোগ উঠে।
পরবর্তীতে খবর পেয়ে সমিতির আরও দুই কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে এলোপাতাড়ি মারধর করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় এবং এক কর্মকর্তার কাছে থাকা সমিতির সাপ্তাহিক আদায়কৃত নগদ এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার একপর্যায়ে আশিকুর রহমান নামে এক কর্মকর্তাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে কোতয়ালী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
এ ঘটনায় কোতয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত চলছে এবং দোষীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, এনজিও কর্মীদের ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও সংশ্লিষ্ট মহল দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।