মোঃ আরিফ শেখ , ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি:
ফরিদপুরে পদ্মা নদীর তীরবর্তী চর ও নদী পাড়ের জমিতে আগাম (মুড়ি কাটা) পেঁয়াজ চাষ করে এখন লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা।
ফরিদপুর সদর, চরভদ্রাসন, সদরপুর উপজেলার পদ্মাপাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন চোখে পড়ে সবুজ পেঁয়াজ ক্ষেত।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষিরা।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণ মৌসুমের তুলনায় আগাম (মুড়ি কাটা) পেঁয়াজ চাষে লাভ বেশি। সাধারণত অক্টোবরের শেষের দিকে গুটি পেঁয়াজ রোপণ করা হয়। ডিসেম্বরের শেষ থেকে জানুয়ারির শুরুতেই পেঁয়াজ তোলা শুরু হয়।
বাজারে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ কম থাকায় দাম তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়। ৬০-৭০ দিনের মধ্যেই তুলে পেঁয়াজ বাজারজাত করা যায়। ফলে অন্যান্য রবি ফসলের তুলনায় কম সময়ে বেশি লাভ পাওয়া সম্ভব হয়।
পেঁয়াজ তোলার পরেই জমি থেকে মণপ্রতি ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছে।
ফরিদপুরের কৃষি বিভাগ বলছে, ফরিদপুরে এ বছর আগাম পেঁয়াজের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ২৮০ হেক্টর জমি, সেখানে ৫ হাজার ৩৬৫ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। এখান থেকে ৮২ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। পদ্মাপাড়ের বেলে-দোআঁশ মাটি আগাম পেঁয়াজ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এই মাটিতে পানি দ্রুত নেমে যায়, ফলে পচন বা রোগবালাই কম হয়। পাশাপাশি শীত মৌসুমের রোদ ও হালকা ঠাণ্ডা আবহাওয়া মুড়ি কাটা পেঁয়াজের গঠন ও স্বাদে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান জানান, মুড়ি কাটা পেঁয়াজ মূলত আগাম জাত। ফরিদপুর সদর, সদরপুর উপজেলার পদ্মা পাড়ে বেশি চাষাবাদ হয়েছে। পদ্মা পাড়ে সঠিক পরিচর্যা করলে বিঘাপ্রতি ভালো ফলন পাওয়া যায়। এতে চাষিরা অল্প সময়েই লাভের মুখ দেখেন।
ফরিদপুরে পদ্মা পাড়ে আগাম পেঁয়াজ চাষ চাষিদের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে। নদীভাঙন আর অনিশ্চয়তার মাঝেও সবুজ এই ফসল হয়ে উঠেছে স্বাবলম্বিতার প্রতীক।