আরমান হোসেন রাজু
বিভাগীয় ব্রুচিপ, রংপুর
নীলফামারী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে চাঁদাবাজি, মারধর ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে ব্ল্যাকমেইলের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৫ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে নীলফামারী সদর থানার পৌরসভাধীন বড় মাঠের পূর্ব পাশে অভিযোগকারী তাপস রায় (২২) তার স্ত্রী আশা রায় (১৯)-এর সঙ্গে বসে কথা বলছিলেন। এ সময় এজাহারনামীয় আসামিসহ কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তাদের ঘিরে ধরে অবৈধভাবে আটক করে ৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তাপস রায়কে গালিগালাজ, চর-থাপ্পড় ও লাথি মেরে মারধর করে এবং পুরো ঘটনা মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে। তার স্ত্রী বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে যৌন নিপীড়নের উদ্দেশ্যে স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে ধাক্কাধাক্কি করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরে চাঁদার টাকা না পেয়ে অভিযুক্তরা ধারণকৃত ভিডিও ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হলে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। দিনের আলোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে এমন ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সুশীল সমাজের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে নীলফামারীর পুলিশ সুপার জেলা গোয়েন্দা শাখা ও সদর থানা পুলিশকে দ্রুত তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোঃ মতলুবর রহমান-এর তত্ত্বাবধানে এবং এসআই (নিঃ) রাসেল শেখ-এর নেতৃত্বে একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে।
গত ৩০ জানুয়ারি ২০২৫ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৩০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নীলফামারী সদর থানাধীন চড়াইখোলা বটতলী বাজারের পশ্চিম পাশে (কবরস্থান এলাকা) অভিযান চালিয়ে চক্রের নেতৃত্বদানকারী প্রধান আসামি মোঃ মামুন শেখ ওরফে জঙ্গী মামুন ওরফে ভাইরাল মামুন (২৫)–কে গ্রেফতার করা হয়। তিনি নীলফামারী সদর উপজেলার ইটাখোলা মাস্টারপাড়া এলাকার মোঃ সিরাজুল শেখের ছেলে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামি স্বীকার করেছে, সে ও তার সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে নীলফামারী বড় মাঠ এলাকায় আগত দর্শনার্থীদের টার্গেট করে চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।
মামলা ও আইনগত ব্যবস্থা
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে নীলফামারী সদর থানায় মামলা নং–৪২, তারিখ–৩০/০১/২০২৬ খ্রি., জিআর নং–৪২/২০২৬ রুজু করা হয়েছে।
মামলায় দণ্ডবিধির ৩৪১/৩৮৫/৩৮৬/৩২৩/৫০৬/৩৪ ধারাসহ ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী–২০০৩) এর ১০ ধারা এবং সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২৫(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।