নিজস্ব প্রতিবেদক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) সংসদীয় আসনে এক ভিন্নধর্মী নির্বাচনী আলোচনার জন্ম দিয়েছেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক শেখ মাহাবুব আলম নাহিদ। তিনি বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (সংক্ষেপে মুক্তিজোট)-এর ব্যানারে সংসদ সদস্য (এমপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার নির্বাচনী প্রচারণার মূলমন্ত্র ও স্লোগানটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে— "ডান-বাম নয় হাটতে হবে বাংলাদেশ বরাবর"। এই স্লোগান প্রচলিত দলীয় রাজনীতির বাইরে এসে একটি জনকল্যাণমুখী ও জাতীয়তাবাদী চেতনার আভাস দিচ্ছে।
দীর্ঘদিনের সমাজসেবার প্রতিদান খুঁজতে ভোটের মাঠে:
পূর্বধলা উপজেলার নিভৃত পল্লী থেকে উঠে আসা শেখ মাহাবুব আলম নাহিদ স্থানীয়ভাবে একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজ সেবক হিসেবে সুপরিচিত। বছরের পর বছর ধরে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করে আসছেন। বন্যা, খরা বা যেকোনো দুর্যোগে তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার এই নিঃস্বার্থ জনসেবা তাকে দল-মতের ঊর্ধ্বে এক ধরনের সামাজিক আস্থা ও জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে। সেই জনপ্রিয়তা এবং জনগণের প্রত্যাশাকে পুঁজি করে এবার তিনি সংসদীয় রাজনীতির কঠিন মাঠে নেমেছেন। তার এই পদার্পণকে এলাকার অনেকে 'জনসেবার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ' দেওয়ার একটি প্রয়াস হিসেবে দেখছেন।
মুক্তিজোটের দর্শন ও নির্বাচনী বার্তা:
মুক্তিজোট একটি অপেক্ষাকৃত নতুন রাজনৈতিক দল, যারা দেশের মানুষের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তিকে তাদের প্রধান আদর্শ হিসেবে তুলে ধরে। শেখ মাহাবুব আলম নাহিদ এই দলের দর্শনকে ধারণ করেই পূর্বধলার মানুষের কাছে মুক্তির বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছেন। তার স্লোগানে যে 'ডান-বাম নয়' কথাটি আছে, তা প্রচলিত ক্ষমতা কেন্দ্রিক বিভাজিত রাজনৈতিক ধারাকে পাশ কাটিয়ে একটি অসাম্প্রদায়িক, শোষণমুক্ত এবং প্রগতিশীল বাংলাদেশের পথে হাঁটার ইঙ্গিত বহন করে।
ইশতেহারের মূল ভাবনা: স্থানীয় উন্নয়ন ও নীতিগত পরিবর্তন:
যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ ইশতেহার প্রকাশিত হয়নি, তবে নির্বাচনী প্রচারে শেখ মাহাবুব আলম নাহিদ তার প্রধান লক্ষ্যগুলো সুস্পষ্ট করেছেন:
১. স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন: পূর্বধলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানসম্পন্ন রাস্তাঘাট, ব্রীজ, কালভার্ট নির্মাণ এবং বিদ্যুৎ সংযোগের শতভাগ নিশ্চিতকরণ। ২. শিক্ষার মানোন্নয়ন: আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি, কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং মেধাবী কিন্তু অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা করা। ৩. স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ: উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, বিশেষ করে মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশু সুরক্ষার উপর জোর দেওয়া। ৪. বেকারত্ব দূরীকরণ: স্থানীয় কৃষিনির্ভর শিল্পের প্রসার ঘটিয়ে যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। ৫. রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন: ক্ষমতা নয়, সেবাকে রাজনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
নেত্রকোনা-৫ আসনটি ঐতিহাসিকভাবেই আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির মতো বড় দলগুলোর প্রভাবাধীন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি নবীন এবং তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত দল মুক্তিজোটের প্রার্থী হিসেবে শেখ মাহাবুব আলম নাহিদের জন্য এই কঠিন প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়া একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। তিনি একদিকে যেমন স্থানীয় প্রভাবশালী ও অভিজ্ঞ প্রার্থীদের মোকাবিলা করবেন, অন্যদিকে তাকে ভোটারদের প্রচলিত দলীয় আনুগত্য ভেঙে নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসতে হবে।
তবে তার ব্যক্তিগত সততা, সমাজ সেবার মাধ্যমে অর্জিত ক্লিন ইমেজ এবং "বাংলাদেশ বরাবর" হাঁটার যে সাহসী রাজনৈতিক বার্তা, তা স্থানীয় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে। পূর্বধলার ভোটাররা কি এবার চিরায়ত রাজনীতির বেড়াজাল ভেঙে নতুন এক পথের দিশারীকে বেছে নেবে? শেখ মাহাবুব আলম নাহিদের নির্বাচনী লড়াই কেবল ব্যক্তি বা দলের নয়, বরং এটি বাংলাদেশের তৃণমূলের রাজনীতিতে একটি নতুন আদর্শিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা বয়ে আনছে।
শেষ কথা:
"ডান-বাম নয় হাটতে হবে বাংলাদেশ বরাবর" – এই শ্লোগানটি নেত্রকোনার পূর্বধলার নির্বাচনী হাটে একটি ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে। স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের এই লড়াইয়ে শেখ মাহাবুব আলম নাহিদ কতটা সফল হন, তা সময়ই বলে দেবে। তবে তিনি যে সাহস ও নতুন বার্তা নিয়ে ভোটের মাঠে নেমেছেন, তা নিঃসন্দেহে পূর্বধলার রাজনীতিতে দীর্ঘ মেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।