মন্ত্রী বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। সামাজিক উৎসবের মাধ্যমেই আমাদের এই সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে হবে। সাংগ্রাই এখন শুধু মারমাদের নয়, এটি পাহাড়ের সম্প্রীতির উৎসবে পরিণত হয়েছে।
এক পাশে সারিতে দাঁড়িয়ে জনাদশেক মারমা তরুণী, অপর পাশে সমানসংখ্যক তরুণ। মাঝে বিভাজক হয়ে প্রত্যেক সারির সামনে পানিভর্তি ডিঙ্গি নৌকা। লম্বা নৌকা থেকে পানি নিয়ে তরুণীরা ছুড়ে দিচ্ছে তরুণদের গায়ে, তরুণরা তরুণীদের। তুমুল উচ্ছ্বাসে ভরা এই জলোৎসবের নাম সাংগ্রাই।
পুরনো বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে বরণ ঘিরে প্রতিবছর মারমা জনগোষ্ঠীর আয়োজনে থাকে এই সাংগ্রাই। বুধবার সকালে একে অপরের গায়ে মৈত্রী জলবর্ষণের মধ্য দিয়ে রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে মেতে ওঠে মারমা তরুণ-তরুণীরা। উপজেলার চিংম্ররম বৌদ্ধবিহার প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় এই উৎসবের।
১৯৭৬ সালে শুরু হওয়া সাংগ্রাই আয়োজন এবার ৫০ বছর পূর্ণ করল।
মন্ত্রী বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। সামাজিক উৎসবের মাধ্যমেই আমাদের এই সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে হবে। সাংগ্রাই এখন শুধু মারমাদের নয়, এটি পাহাড়ের সম্প্রীতির উৎসবে পরিণত হয়েছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় সামাজিক উৎসবগুলো কেবল আনন্দ আয়োজনের মাধ্যম নয়, বরং এগুলো আমাদের ঐতিহ্য, রীতিনীতি ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’ তিনিবলেন, ‘সাংগ্রাই হলো মারমা সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব। এই উৎসব ঘিরে এখানে সব জাতিগোষ্ঠীর মিলন ঘটেছে। এদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ।’ সব জাতিসত্ত্বার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় একটি নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এর আগে সকালে মারমা জনগোষ্ঠীর শত শত মানুষ নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। বাদ্যের তালে তালে শোভাযাত্রাটি এলাকার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে শুরু হয় জলোৎসব।
জলোৎসবের জন্য একদিকে মারমা তরুণী অপরদিকে তরুণরা মুখোমুখি দাঁড়ান। ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকায় পানি ভরে রাখা হয়। একপর্যায়ে বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে চলে পরস্পরের দিকে পানি ছিটানো। এভাবে এক দলের খেলা শেষে আরেক দল খেলা শুরু হয়।
সামাজিক রীতি অনুযায়ী জলকেলি উৎসবের মাধ্যমে মারমা তরুণ-তরুণীদের একে-অন্যের সাহচর্যে আসার সুযোগ হয়। এ সময় তারা তাদের প্রিয় মানুষটিকে বেছে নেওয়ার কাজটিও সেরে নেন। সাংগ্রাই উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পানি খেলা দেখার জন্য
হাজার হাজার নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর উৎসবস্থলে সমবেত হয়।
সাংগ্রাই মূলত মারমাদের উৎসব হলেও এর সঙ্গে পার্বত্য জেলার বিভিন্ন জনগোষ্ঠী এমনকি বাঙালিরাও এতে যোগ দেয়। ফলে এটি আর মারমাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। সাংগ্রাই উৎসব পরিণত হয় পাহাড়ি-বাঙালির মিলনমেলায়।
এদিকে, সাংগ্রাই উৎসব উপলক্ষে বিহার প্রাঙ্গণে তিন দিনের বৈশাখী মেলার আজ শেষ দিন। নববর্ষ ঘিরে বিহারে দায়ক দায়িকারা পূজা, বুদ্ধ মূর্তি ও বয়স্কদের স্নান করানোসহ নানা ধর্মীয় আচার পালন করছে।