ক্রাইম রিপোর্ট: রবিন আহমেদ।
আলাপ–১: ভোটকেন্দ্রে যারা পোলিং এজেন্ট থাকবেন, তারা যেন ভোট শুরুর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে প্রিজাইডিং অফিসারের কাছ থেকে ব্যালট পেপারের সমস্ত ‘বালাম-বই’ (ব্যালটের বান্ডিল)-এর হিসাব নেন। গণভোটের ব্যালটসহ।
প্রতিটি বালামে কতটি ব্যালট আছে তা আলাদা কাগজে লিপিবদ্ধ করতে হবে।
ধরা যাক মোট বালাম-বই ১০টি। প্রতিটিতে ৫০০ করে ব্যালট পেপার। তাহলে মোট ব্যালট পেপার = ১০ × ৫০০ = ৫,০০০টি। গণভোটের ব্যালট ও মার্কার ব্যালট আলাদা রাখবেন।
এবার ভোট গ্রহণ শেষ হলে (অর্থাৎ ভোট গণনা শুরু হওয়ার আগে) ব্যালটের বালাম-বই আবার হিসাব করতে হবে। মোট কতটি ব্যালট পেপার ভোটাররা ব্যবহার করেছেন তা বের করতে হবে।
ধরা যাক ১০টি বালাম-বই থেকে ব্যালট ছেঁড়া হয়েছে ৩,৫০০টি। এবার ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর দেখতে হবে বাতিল ভোট বা নষ্ট হওয়া ভোটসহ মোট সিল মারা ব্যালট ৩,৫০০টি কি না। যদি ৩,৫০০ হয়, তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু যদি ৩,৫০০-এর বেশি হয়, যেমন ৪,৫০০টি, তাহলে বুঝতে হবে ভোট জালিয়াতি হয়েছে। কেউ অতিরিক্ত ব্যালট বাক্সে ঢুকিয়েছে।
এমন হলে প্রিজাইডিং অফিসারসহ কাউকে এক চুলও নড়তে দেওয়া যাবে না।
আলাপ–২: ভোটকেন্দ্রে অবশ্যই নির্লোভ ও সন্দেহাতীতভাবে বিশ্বস্ত কর্মীকে পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দিতে হবে। পোলিং এজেন্ট যেন শিক্ষিত ও স্মার্টফোন ব্যবহারে দক্ষ হয়।
এজেন্টের মোবাইলে আগে থেকে সমস্ত জরুরি যোগাযোগের নম্বর সেভ করে দিতে হবে। অসুস্থ, অতি বয়স্ক, নিরক্ষর—এমন কাউকে পোলিং এজেন্ট করা যাবে না। বিরোধী শক্তি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে পোলিং এজেন্টদের টাকা দিয়ে হাত করতে।
আলাপ–৩: ভোটের বক্স, অর্থাৎ ভোট দেওয়ার পর যে বক্সে ব্যালট পেপার ফেলা হবে, সেই বক্স যেন সর্বদা পোলিং এজেন্টদের চোখের সামনে থাকে—এটা নিশ্চিত করতে হবে।
ভোটার যখন বক্সে ব্যালট ফেলবেন, তখন খেয়াল রাখতে হবে কতটি ব্যালট ফেলছেন। কোনো ভোটার অতিরিক্ত ব্যালট বা সঙ্গে করে নিয়ে আসা সিল মারা ব্যালট ফেলছেন মনে হলেই সঙ্গে সঙ্গে পাকড়াও করতে হবে। কোনো প্রকার অবহেলা করা যাবে না।
আলাপ–৪: ভোটের বক্স এক মুহূর্তও চোখের আড়াল করা যাবে না। প্রিজাইডিং অফিসার বলতে পারে, “এই বক্সটা ভরে গেছে, এটা আলাদা রুমে রেখে আসি।”
না, এটা কোনোভাবেই হতে দেওয়া যাবে না। বক্স ভরে গেলেও তা পোলিং এজেন্টদের সামনে থাকবে। আবার গণনার আগে প্রিজাইডিং অফিসার বলতে পারে, “আপনারা একটু চা-বিস্কুট খান, আমরা বক্সগুলো গোছাই”—এই বলে বক্স সব একসাথে করার নামে আলাদা রুমে নিতে চাইতে পারে, এই ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না।
এক কক্ষের বক্স আরেক কক্ষে আনার দরকার হলে, সেই বক্স আনার সময় পোলিং এজেন্টকে বক্সের পিছু পিছু আসতে হবে, এবং বক্স যে কক্ষে রাখা হবে সেই কক্ষে বক্সের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই ভোট শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভোটের বক্স ১ সেকেন্ডের জন্যও চোখের আড়াল রাখা যাবে না।
আলাপ–৫: ভোটের লাইনে কাউকে সন্দেহজনক মনে হলেই বিনা দ্বিধায় পাকড়াও করে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে। পর্যাপ্ত নারী কর্মী রাখবেন, যেন বোরকা পরে কেউ ভিক্টিম কার্ড খেলতে চাইলে তাকে ঘিরে ধরা যায়।
আলাপ–৬: অবশ্যই পোলিং এজেন্ট উপস্থিত থেকে ভোট গণনা শেষ করবেন। কাস্টিং ভোটে কোন প্রতীক কত ভোট পেয়েছে, তা প্রিজাইডিং অফিসারের লিখিত স্বাক্ষরসহ বুঝে নেবেন। এক্ষেত্রে অবশ্যই শুধু অঙ্কে নয়, প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা কথায়ও লিখবেন (ব্যাংকের চেক যেভাবে লিখেন ঠিক সেভাবে), যাতে কেউ পরবর্তীতে ইঞ্জিনিয়ারিং করতে না পারে।
১২ তারিখের আগেই যাবতীয় প্রস্তুতি নিশ্চিত করুন।