কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার থানাহাট বাজার সংলগ্ন শামছপাড়া এলাকার মাইল ডাঙ্গার পারের গুরুত্বপূর্ণ নালাটি এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। থানাহাট বাজারের প্রতিদিনের সমস্ত বর্জ্য ও প্লাস্টিক অপরিকল্পিতভাবে ফেলার কারণে নালাটি সম্পূর্ণ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে শুধু পরিবেশই বিপন্ন হচ্ছে না, বরং নালার পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে আশেপাশের বিস্তীর্ণ আবাদি জমির ফসল মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা চললেও তা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো ভূমিকা না থাকায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাইল ডাঙ্গার পারের নালাটির একটি বড় অংশ জুড়ে বাজারের প্লাস্টিক বর্জ্য, পলিথিন এবং পচনশীল আবর্জনার স্তূপ জমে পাহাড় হয়ে গেছে। এর ফলে নালার স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি অবরুদ্ধ।
স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এই নালাটি আশেপাশের ফসলি জমির পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম। নালাটি ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই নোংরা ও দূষিত পানি উপচে আবাদি জমিতে প্রবেশ করছে। বাজারের ক্ষতিকর রাসায়নিক ও প্লাস্টিকযুক্ত এই দূষিত পানির কারণে ফসলের গোড়া পচে যাচ্ছে এবং জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। অনেক কৃষকই এখন ফসল ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
কৃষকদের পাশাপাশি সাধারণ বাসিন্দারাও পড়েছেন চরম বিপাকে। আবর্জনা পচা তীব্র দুর্গন্ধে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা দায় হয়ে পড়েছে। পরিবেশবিদদের মতে, এভাবে খোলা জলাশয় বা নালায় বর্জ্য ফেলার কারণে একদিকে যেমন কৃষিখাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে মশা-মাছির উপদ্রব বেড়ে এলাকায় ডায়রিয়া, ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন পানিবাহিত ও মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও কৃষক মহলের দাবি— অবিলম্বে এই নালাটি পরিষ্কার করে পানি চলাচলের উপযোগী করা হোক এবং থানাহাট বাজারের ময়লা ফেলার জন্য বিকল্প কোনো নিরাপদ স্থায়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক। দেশের প্রধান চালিকাশক্তি কৃষি ও কৃষকদের বাঁচাতে এই জনদুর্ভোগ নিরসনে তারা স্থানীয় প্রশাসন ও বাজার কমিটির দ্রুত ও কার্যকরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।