কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) বিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে একাডেমিক সাফল্যের কৃতিত্বস্বরূপ পাঁচ বিভাগের মোট ২৮ শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল ১১টায় বিজ্ঞান অনুষদের কনফারেন্স রুমে আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত পদার্থবিজ্ঞান, পরিসংখ্যান, গণিত, রসায়ন, ফার্মেসী বিভাগের স্নাতক ফলাফলে সর্বোচ্চ সিজিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে রসায়ন এবং ফার্মেসি বিভাগে স্নাতক সম্পন্ন না হওয়ায় গণিত, পরিসংখ্যান, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সর্বোচ্চ সিজিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীদেরও পুরস্কৃত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন সহযোগী অধ্যাপক ড. প্রদীপ দেবনাথের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. সজল চন্দ্র মজুমদার, পরিসংখ্যান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র নন্দী, রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন।
পুরস্কারগ্রহণ শেষে অনুভূতি প্রকাশ করে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিভাগের নবনিযুক্ত প্রভাষক মো. শাফায়েত হোসেন বলেন, ‘আজ যারা পুরস্কার পেয়েছেন, তাদের আন্তরিক অভিনন্দন।
এ সম্মাননা শুধু একটি সনদ নয়, বরং দীর্ঘ পরিশ্রম ও ধৈর্যের স্বীকৃতি। আমরা ভিন্ন ভিন্ন বাস্তবতা ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে এখানে পৌঁছেছি। কিন্তু সবার মাঝে ছিল হাল না ছাড়ার মানসিকতা। আমার বাবা ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ছিলেন এবং মা নিরক্ষর।
তাঁদের ত্যাগ ও দোয়ার ফলেই আজ আমরা প্রতিষ্ঠিত। একজন পুলিশ উপপরিদর্শক, একজন ব্যবসায়ী এবং আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।'
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম বলেন, আজকের মেলাটা হচ্ছে মেধাবীদের মেলা। তোমরা যারা আজকে সম্মানে সম্মানিত হয়েছ, সেটা সারাজীবন ধরে রাখার চেষ্টা করবে এবং মানবিক ও মনুষত্ববোধসম্পন্ন মানুষ হওয়ার চেষ্টা করবে। বর্তমানে সমাজে সবচেয়ে বড় অভাব হচ্ছে মানুষের মনুষত্বের অভাব।
তাই তোমাদেরকে মানবিক দিক বিবেচনা করে সমাজে এগিয়ে যেতে হবে এবং সমাজের জন্য কাজ করে যেতে হবে। '
প্রধান অতিথির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয় উন্নত হয় ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীর কোয়ালিটির ওপর ভিত্তি করে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এবারের ভর্তি পরীক্ষায় ১টি সিটের জন্য ১৫০ জন শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতা করে এবং ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ‘এ’ ইউনিটের ১ম মেধা তালিকার ৩০০ জনের মধ্যে ২৫০ জনই ভর্তি হয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে, মেধাবীরা আসতে শুরু করেছে। আশা করি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হবে।’
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও বিজ্ঞান অনুষদের ডিন সহযোগী অধ্যাপক ড. প্রদীপ দেবনাথ বলেন, ‘প্রথমবারের মতো আমরা বিজ্ঞান অনুষদের পক্ষ থেকে একটি সুস্পষ্ট ও প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেছি। ডিনস অ্যাওয়ার্ড কেবল একটি পুরস্কার নয়; এটি শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক একাডেমিক সাফল্য, গবেষণামনস্কতা, সৃজনশীল চিন্তাশক্তি, নেতৃত্বগুণ এবং নৈতিক দায়বদ্ধতার স্বীকৃতি। একটি নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে এই সম্মাননা প্রদান ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করবে এবং উৎকর্ষ সাধনে আরো অনুপ্রাণিত করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।