
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ভুল চিকিৎসায় ঐশী রবিদাস (১৩) নামে ৭ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে উপজেলার ডানকান ব্রাদার্স নিয়ন্ত্রিত শমশেরনগর ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ঐশী রবিদাস শমশেরনগর চা বাগানের রবিদাস টিলার চা শ্রমিক বাবুল রবিদাসের মেয়ে। এ ঘটনায় চা শ্রমিক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ এনে তারা হাসপাতাল ভাঙচুর এবং চিকিৎসকসহ স্টাফদের ঘেরাও রাখেন। এক পর্যায়ে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পদত্যাগ করে পুলিশ পাহারায় হাসপাতাল ত্যাগ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চা শ্রমিক বাবুল রবিদাসের মেয়ে ও শমশেরনগর হাজী উস্তওয়ার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ঐশী রবিদাসকে বৃহস্পতিবার রাতে মাথাব্যথা ও বমি নিয়ে ক্যামেলিয়া ডানকান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতভর চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
শিক্ষার্থী ঐশী রবিদাসের মৃত্যুর খবরে শমশেরনগর চা বাগান এলাকাবাসী ও চা শ্রমিকদের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দেয়। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কয়েকশ চা শ্রমিক ক্যামেলিয়া হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকসহ স্টাফদের ঘেরাও করে রাখেন এবং ফুলের টবসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালের ইনচার্জ আনোয়ারুল ইসলাম লিখিতভাবে পদত্যাগ করেন।পরবর্তীতে তাকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে আসলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানায় পুলিশ।
এ ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার সত্যতা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
শমশেরনগর চা বাগান ব্যবস্থাপক মো. জাকির হোসেন বলেন, চা শ্রমিক শিক্ষার্থী ঐশী রবিদাসকে এক মাস পূর্বে ডানকান হাসপাতালে নিয়ে আসলে তারা তখন মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেছিল। গত বৃহস্পতিবার আবার অসুস্থতা নিয়ে তাকে ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখানে কোনো ভুল চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সার্কেল)
মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু, কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল আউয়াল, শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শাহ আলমসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। ডানকান হাসপাতালের ইনচার্জকে শমশেরনগর এনে একজন চিকিৎসকের বাসায় রাখা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে। বাগানের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা চলছে।