ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জের সাবেক প্রভাবশালী ছাত্রলীগ নেতা, জেলা যুবলীগের অন্যতম নেতা জাউয়ার আলমগীর হোসাইন আবারও আলোচনায়। সম্প্রতি জাউয়াবাজার সংলগ্ন আবিদপুর গ্রামে একটি কথিত মাদকসেবন ও জুয়ার আসর থেকে গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে তাকে বলতে শোনা যায় আর্মিসহ সব আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আমি ম্যানেজ করবো, তোমরা চিন্তা করো না।”
ভিডিওটি স্থানীয়দের হাতে পৌঁছানোর পর এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে আলমগীর হোসাইনকে গ্রেপ্তারের জন্য সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
গত ২ জুলাই গভীর রাতে সেনাবাহিনী জাউয়া কোনাপাড়ায় আলমগীর হোসাইনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দুটি দেশি পাইপগান ও দুটি বিদেশি চাবুক উদ্ধার করে। অভিযান টের পেয়ে তিনি বাড়ির পেছন দিয়ে পালিয়ে যান বলে দাবি সেনাবাহিনীর।
পরদিন উদ্ধারকৃত অস্ত্র জাউয়াবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে জিডির মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়। তবে তদন্ত কেন্দ্র থেকে মাত্র পাঁচশ’ গজ দূরে অবস্থান করলেও আলমগীরকে গ্রেপ্তারে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
থানা সূত্র জানায়, আলমগীর হোসাইনের বিরুদ্ধে বর্তমানে কমপক্ষে তিনটি মামলা রয়েছে।
যুক্তরাজ্যপ্রবাসী আত্মীয়দের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলা,অস্ত্র আইনে মামলা,স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ওপর প্রভাব খাটানোর অভিযোগ।
জাউয়াবাজারে দোকানকোটা দখল বজায় রাখতে সেনাবাহিনীর সদস্যদের ‘ম্যানেজ’ করার দাবি তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার জিজ্ঞাসাবাদেও করেছিলেন বলে প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে।
গত বছরের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তনের পর বেশ কয়েক মাস এলাকায় দেখা যায়নি আলমগীরকে। কিন্তু সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তিনি আবার প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য— এলাকায় অনুষ্ঠিত মাদকসেবন ও জুয়ার আসরগুলোতে তার এবং তার সহযোগীদের সক্রিয় উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। এলাকার তরুণদের বিপথগামী করছেন আলমগীর ও তার সহযোগীরা। এলাকাবাসী এই মাদকাসক্ত আলমগীরকে গ্রেফতারের দাবি জানান।