মোঃ শামীম রেজা, স্টাফ রিপোর্টার :
ফরিদপুরের মধুখালির কামারখালি ব্রিজ সংলগ্ন পশ্চিম আড়পাড়ায় অবস্থিত গড়িদাহ খাল অপরিকল্পিত খননের কারনে হুমকির মুখে ২০টি’র অধিক বাড়ী ঘর । খাল ডিজাইন অনুযায়ী স্লোপ না করে খাড়াখাড়ি খনন আর খননের মাটি বিক্রি করা হয়েছে ইটের ভাটায়। খালের পাড়ে মাটি না থাকায় পাড় ভেঙ্গে প্রায় ২০টি’র অধিক বাড়ী ঘর হুমকির মুখে ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে , কামার খালী ব্রীজ থেকে পশ্চিম আড়পাড়া পর্যন্ত গরিদা খালের বেশ কয়েক যায়গায় পাড় ভেঙ্গে গেছে। কোথাও কোথাও বাশ দিয়ে প্যালাসাইডিং করে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোতালেব অভিযোগ করে জানান, খাল খননের কারনে বেশ কয়েকটি জায়গায় পাড় ভেঙ্গে গেছে। ভারী বৃষ্টি হলে আমাদের বসতভিটা ভেঙ্গে যেতে পারে। কয়েকটি জায়গায় বাশ দিয়ে বেড়া দিয়ে রেখেছে , ঢল নামলে কি এ বাশের বেড়ায় আটকাবে ? খাল খনন করেছে খাড়াখাড়ি খুব গভীর করে ,আর খাল খননের মাটি বিক্রি করেছে ইটের ভাটায়। খালের পাড়ে কোন মাটি নেই । আমরা কয়েকজন এলাকাবাসী মিলে পানি উন্নয়নবোর্ডের অফিসে গিয়েছিলাম । কিন্তু আজও কোন সমাধান পাইনি।
স্থানীয় বাসিন্দা ইদ্রিস অভিযোগ করে জানান, আমার জন্মের আগে এখানে দিয়ে একটি রাস্তা ছিলো। আমরা গ্রামবাসী এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতাম। সেই রাস্তা ভেকু দিয়ে কেটে প্রায় ১০টির বেশি ট্রাক দিয়ে মাটি নিয়ে ইটের ভাটায় বিক্রি করেছে। আমরা কৃষিকাজ করি আমাদের ফসল নিয়ে আসা যাওয়া করতে হয়,রাস্তা কেটে মাটি ইটের ভাটায় বিক্রি করেছে ঠিকাদার। আর যেভাবে খাল খনন করেছে এতে আমাদের বসতভিটা সব খালে চলে যাবে। পাশেই আমার ভাইয়ের ঔষধের দোকান ছিলো সেই দোকান ভেঙ্গে অন্য জায়গায় নিয়ে গেছে। তার ঘর ভেঙ্গে গেছে এখন তাকে অন্য জায়গায় বাড়ী বানিয়ে বসত করতে হবে। আমরা এলাকাবাসী অনেকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও আমাদের কোন কথা তারা শেনেন নি। আমাদের এখানে অনেক বসতভিটা এখন হুমকির মুখে ।
আমরা অসহায় গরীব মানুষ বিধায়, আমাদের কথা কেউ শুনে নাই। আমরা চাই প্রশাসন বিষয়টি আমলে নিয়ে ব্যাবস্থা গ্রহন করুক,আমাদের রাস্তা নির্মান করে দিক আর যারা এমন ক্ষতি করেছে তাদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি ও বিচার চাই ।
সূত্রে জানাগেছে, সিএসএডব্লিউএম এর আওতায় রাজবাড়ী পানিউন্নয়ন বোর্ডের অধিনে ফরিদপুরের মধুখালির কামারখালি ব্রিজ সংলগ্ন পশ্চিম আড়পাড়ায় অবস্থিত গড়িদাহ খাল খননের কাজ ৯২৬০০৯৮.০২৪ টাকা চুক্তিমূল্যে বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন স্বনামধন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসাস রহমান ইন্জিনিয়ারিং এর ২নং প্রতিনিধি জনাব মাজাহারুল আলম চঞ্চল, ফরিদপুর (মতি মেডিকেল হল প্রেস ক্লাব সংলগ্ন ফরিদপুর)উক্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ১নং প্রতিনিধি জনাব মোঃ আবুল হাশেম সুজন (প্রোঃ মেসাস সুজন এন্টারপ্রাইজ) ঠিকাদার অনুপস্থিতিতে ২নং প্রতিনিধি জনাব মাজাহারুল আলম চঞ্চল উক্ত প্রকল্পটি অপরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়ন করেন।